দেবিদ্বার পৌর পার্কগুলো প্রশাসনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিলীন হতে চলেছে। উপজেলার প্রবেশ ধারে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী পৌর শিশু পার্কটির অবস্থা এতই নাজুক যে চারদিকের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে যাওয়ায় কুকুর, বিড়ালের প্রবেশ থেকে শুরু করে স্থানীয় বখাটেদের উৎপাত, নেশাখোরদের অভয়ারন্য যাতায়ত ও স্কুল/ কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ডিটিং জোনে পরিনত হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৩ খ্রি.’র ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক তারিক- উল- ইসলাম এ পার্কটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০০৫ খ্রি.’র ২৭ এপ্রিল চারদলীয় জোটের স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর উপস্থিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া এ পার্কটি উদ্বোধন করেন ব্যাপক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে।

এ পার্কটি উদ্বোধনের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে বছর খানেক শিশুদের কোলাহলে জাকজমক থাকে। কিন্তু বর্তমান আ্ওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তালা ঝুলিয়ে দেয় পার্কটিতে। দিনের পর দিন তালা ঝুলতে দেখে শিশু অভিভাবকরা পার্কে আসা বন্ধ করে দেয়। ভিতরে প্রবেশ না করতে দেয়ায় পার্কের ভিতরের দেশী বিদেশী ফুলের চারা, খেলনা হাতি, জিরাফ, বাঘ, সিংহ, দোলনাসহ অন্যান্য খেলনা সামগ্রী নষ্ট/অকেজো হয়ে পড়ে, স্থানীয় বখাটে ্ও মাদকসেবীরা সৌন্দর্যবর্ধনের বিশেষ উপকরণ পার্কের দক্ষিণ পাশের গ্রীল ভেঙ্গে নিয়ে যায়, এখন দিনে স্কুল-বলেজ পড়–য়া ছাত্র/ছাত্রীদের আড্ডা আর রাতে চলে বখাটেরা উৎপাত, মাদকসেবনসহ নানা অপরাধকর্ম কান্ড।

অন্যদিকে দেবিদ্বার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শহীদ জিয়া পৌর পার্কটি বিগত চারদলীয় জোটের প্রভাবশালী সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর হস্তক্ষেপে নির্মাণ করা হয়। পার্কটির চার-পাশে লোহার গ্রীল দ্বারা পরিবেষ্ট ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নানা রংয়ের বৈদ্যুতিক বাতি এবং বিশ্রামের জন্য উন্নত মানের টাইলস্ দিয়ে ঢেলনি নির্মাণ করা হলেও এখন কোন কিছুরই অবশিষ্ট নেই ।

সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এ পার্কেরও নানা জাতীয় দেশী- বিদেশী ফুলের চারাগাছ ছিল এখন তা নষ্ট হয়ে পরিনত হয়েছে বিভিন্ন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে। আর এ ঝোপঝাড়ের আড়ালে পথচারী ও স্থানীয়দের মূলমূত্র ত্যাগই হয়েছে পার্কটির শেষ আশ্রয়স্থল। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানায়, এ পার্কটি এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধন ও বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশসানের কোন দৃষ্টি নেই এ পার্কটির উপর। এখন যে যার মত ব্যবহার করছে ।

এ পার্কটি উদ্বোধনের পর থেকে বছর খানেক চালু থাকলেও এখন ভবঘুর, নেশাখোরদের আনাগোনা, যত্রতত্র মূলমূত্র ত্যাগ, রেন্ট কারের গাড়ি ও প্রাইভেট হসপিটালের এ্যাম্বুলেন্স পার্কিংসহ কয়েকটি ফুটপাত দোকানের দখলে পুরো পার্কটি।

উপজেলা সদরে বিনোদন কেন্দ্র বলতে এ দুটি পার্ক ছাড়া আর কিছু নেই, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্থানীয়দের জন্য কোন বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের কোন উদ্যোগ নেয়নি। এ ব্যাপারে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন- এ পার্ক গুলো দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত হয়ে আছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এতো দিন এ গুলোর সংস্কারের প্রস্তাব আসেনি এখন রাজনৈতিক ভাবেই সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে, খুব শিগগিরই উপজেলা পৌর শিশু পার্কটি সংস্কার করা হবে পর্যায়ক্রমে শহীদ জিয়া পৌর পার্কটি সংস্কারেরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম জানান, দেবিদ্বার উপজেলায় বিনোদন কেন্দ্র বলতে এ দুটি পার্ক ছাড়া কিছুই নেই বর্তমানে এ দুটি পার্কও জরার্জিন অবস্থায় পড়ে আছে । রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ পার্কগুলো এতো দিন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি এখন সরকারি ভাবে এবং পৌরসভা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এ দুটি পার্কের পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে। এসএ