আবারো শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় (খাদ্যশস্য) চাল পরিবহন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২৭৩ টন চাল গেল ভারতের ত্রিপুরায়। এ নিয়ে তৃতীয় দফা বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহন হচ্ছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর কাষ্টমস অফিস জানায়, মঙ্গলবার ভারত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষিদিরপুর নৌবন্দর থেকে প্রায় ২৩ শ' টন (খাদ্যশস্য) চাল নিয়ে এমভি অভি নামে একটি জাহাজ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙ্গর করে।

বুধবার মাল খালাস হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ২৭৩ টন চাল নিয়ে ১৫টি কাভার্ড ভ্যান আশুগঞ্জ বন্দর থেকে ত্রিপুরার উদ্দ্যেশে ছেড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে পৌছে।

পরে কাষ্টমসসহ নানা আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে সকাল ১১টায় ১৫ কাভার্ডভ্যান ভর্তি এই ২৭৩ টন চাল চলে যায় ভারতের ত্রিপুরায়।

এসব চাল ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ৪৫০ কিলোমিটার নৌপথ ও ৫০ কিলোমিটার স্থলপথ ব্যবহার করা হলেও মানবিক কারণে কোনো প্রকার শুল্ক নেয়া হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মানবিক কারণে শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার মেট্রিকটন ভারতীয় খাদ্যশস্য (চাল) বাংলাদেশের উপর দিয়ে পরিবহনের অনুমোদন লাভ করে ভারত।

ইতোমধ্যে চুক্তির আওতায় ২০১৪ সালে ১০ হাজার টন চাল ও ২০১৫ সালে ১০ হাজার টন চাল বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় পৌঁছেছে। ওই চালের আরেকটি চালান নিয়ে এমভি অভি নামের জাহাজটি ১৪ আগস্ট কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে রওনা হয়ে গত ২৩ আগষ্ট আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌছে।

চাল পরিবহনে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আনবিস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের স্থানীয় ঠিকাদার জিয়াউদ্দিন খন্দকার জানান, বুধবার সকাল ১০টা থেকে জাহাজ থেকে চাল আনলোড করে কাভার্ড ভ্যানে লোড করা হয়েছে।

১৫টি কাভার্ড ভ্যানে চাল লোড করা হয়েছে। প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানে ১৮.২৫ টন করে চাল লোড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় ১৫ টি কাভার্ড ভ্যান আখাউড়া স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে আশুগঞ্জ ছেড়ে এসে আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে সকাল ১১টায় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সরাসরি ভারতের ত্রিপুরায় চলে যায়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, কাস্টমস থেকে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জাহাজ থেকে কাভার্ড ভ্যানে চাল উঠানোর অনুমতি দেয়া হয়। শুল্ক ছাড়া সকল প্রকার চার্জ পরিশোধ করে এসব চাল ত্রিপুরা যায়।

এসএম