অব্যাহত অবরোধের রোষানলে পড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মেহেরপুরের সবজি চাষী ও ব্যবসায়ীরা। অনেক কষ্টে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে না পারায় লোকসানে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।
জমি থেকে সবজি তোলার খরচও উঠছে না তাদের। বিক্রি করতে না পেরে জমিতে নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত সবজি। অনেক চাষী বাধ্য হয়ে সবজি তুলে অন্য চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে সব চাষীরা তাদের সবজি ব্যবসায়ীদের কাছে জমি থেকে বিক্রি করে দিয়েছিল সে সবজিগুলোও নিচ্ছে না তারা।
সদর উপজেলার বন্দর গ্রামের সবজি চাষী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ১ বিঘা কপি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা ছিল। অবরোধের কারণে বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকায় ১ বিঘা কপি বিক্রয় করতে হয়েছে। ১ বিঘা কপিতে খরচ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে জমিতে যে কপি আছে তা গরু ছাগলকে খাওয়ানোর জন্য মানুষকে দিয়ে দিতে হচ্ছে।’
কপি চাষী ইবাদত হোসেন বলেন, ‘অবরোধের দুইদিন আগে জমিতে থাকা কপি ঢাকার ব্যাপারীদের কাছে ৭৬ হাজার টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে কপি জমিতেই নষ্ট হচ্ছে।’
আমঝুপি গ্রামের বেগুন চাষী নজরুল ইসলাম জানান, অবরোধের আগে ২০ টাকা কেজিতে বেগুন বিক্রি করা হয়। কিন্তু এখন জমি থেকে বেগুন তুলে বাজারে নিলে ২ টাকা কেজিতেও কেউ নিচ্ছে না।
এদিকে জেলার পাইকার সবজি বাজারগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে ফরিয়াসহ শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে।
বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আহসান হাবিব বলেন, হরতাল ও অবরোধে ৫ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। চাষীদের জমিতে বিভিন্ন সবজি কেনা আছে। কিন্তু গাড়ির অভাবে জমি থেকে সবজি তোলা যাচ্ছে না।
বড় বাজারের আড়ৎ ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, টানা ১০ দিন ধরে কোনো মাল আমদানি নেই। বাজারে সবজির দাম না থাকায় চাষীরা জমি থেকে সবজি তুলছে না।
প্রশাসনের আশ্বাসে অনেকে ট্রাক ভাড়া করে সবজি বাজারজাত করার চেষ্টা করলেও ট্রাক মালিকরা ট্রাক ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না।
ট্রাকমালিক হাফিজুল ইসলাম জানান, পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে একটি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশে পাঠাই। কিন্তু নাটোরে দুর্বৃত্তদের হামলায় ট্রাকচালক ও হেলপার আহত হন। বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে কোনো চালক গাড়ি নিয়ে সড়কে যেতে চাচ্ছেন না।
এমন পরিস্থিতি আরও কিছুদিন থাকলে সবজি চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
মেহেরপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, প্রতিবছর সবজি বিক্রি করে প্রচুর টাকা আয় হয়। এ বছর অবরোধের কারণে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বে।
জেআই





