সংশ্লিষ্টদের মতে, অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কার্যক্রম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এবার প্রথমবারের মতো iBAS++ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ না থাকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক জানান, ২০২২ সালের পর অবসরে যাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই এখন পর্যন্ত অবসর সুবিধার অর্থ পাননি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণে অনেকেই চিকিৎসা, পারিবারিক ব্যয় এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও প্রস্তুত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিপুলসংখ্যক আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে মোট প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডে ৬৭ হাজারের বেশি আবেদন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা রয়েছে, যা নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ কল্যাণ ট্রাস্টের হাতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পাবেন।

এস