টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। একইসঙ্গে নদী ভাঙন তীব্র হওয়ায় এ পর্যন্ত গৃহহারা হয়েছে অন্তত ৪০০ পরিবার।

বন্যার ফলে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট অববাহিকার চরাঞ্চলসহ সম্পূর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর তোষা পাট, আমনের বীজতলা ও আগাম সবজি খেত।

এছাড়া ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান, বর্ষণ ও বন্যার পানিতে বাদামের চর, ভাটি কাপাসিয়া, পূর্ব লালচামার, পশ্চিম লালচামার, উজান বুড়াইল, ভাটি বুড়াইল এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ৪০০ পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার মানুষ।

এছাড়া হরিপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার, বেলকা ইউনিয়নে ৩ হাজার, শ্রীপুর ইউনিয়নে ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল আলম জানান, পানিবন্দি মানুষের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ওএফ