জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছেন, ‘আপনারা খাই খাই স্বভাব পরিহার করুন। আর এ থেকেই বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের ভেতরে কতো খাই খাই অবস্থা বিরাজ করছে। তাই আমি সৈয়দ আশরাফ সাহেবকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে তিনি এই বিষয়টিকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন।’
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ আয়োজিত ‘পৈশাচিকতা বন্ধে নাগরিক দায়িত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিই ব্লগার হত্যার জন্য দায়ী।
ড. মিজানুর বলেন, ‘মূলবোধের অবক্ষয় দূর করার প্রধার উপায় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন। অথচ আমরা শিশুদের পিঠে বইয়ের বোঝা উঠিয়ে তাদের মেরুদণ্ড ভাঙ্গার ব্যবস্থা করেছি।’
ব্লগার হত্যার বিষয়ে প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের ভিতরে যে দুষ্টচক্র আছে তাদেরকে কি আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি, পারিনি। কোনো ব্লগার হত্যা হলে সাথে সাথে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, সমাজে যে অস্থিরতা তার অন্যতম কারণ হলো, ধৈর্য্যচ্যুতি ও মেধার অবমূল্যায়ন। ফলে মেধাবীরা সমাজে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনি যদি কোনো রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে অপরাধ করেন তাহলে আপনি যেন নিরাপদ। আইন আপনাকে স্পর্শ করবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ যদি আপনাদের মামলা না গ্রহণ করে, তবে আপনারা মানবাধিকার কমিশনের কাছে নালিশ জানান। আমরা সেই বিষয়টি দেখার নিশ্চিয়তা দিচ্ছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, আজ দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সেই পরাজিত শক্তি আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি আর বিএনপি নাই। জামায়াত বিএনপির অস্তিত্ব ধ্বংস করে এখন আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য পদ নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের কিছু পরাজিত শক্তি আজকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ নেয়ার জন্য ছুটাছুটি করছে। অথচ তাদের পত্রিকার কোনো ভিত্তিই নাই।
সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মে. জে. (অব:) আব্দুর রশিদ, ম হামিদ, এ কে এম শহীদ, অধ্যাপক জিয়া রহমান প্রমুখ।
এমএইচ





