এবার অতিরিক্ত নৌ-পথ,রেল পথ ও সড়ক দূর্ঘটনার ফলে ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। আর এ দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু।  একই সঙ্গে আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এদের মধ্যে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে আরো শতাধিক। এস্বজন হারা বেদনায় সারাদেশে  নেমে এসেছে শোকের ছায়া।আরেএ প্রাণহানির ঘটনায় থামছে না স্বজন হারাদের কান্না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধুমাত্র ঈদকেন্দ্রিক যাতায়াতের গত এক সপ্তাহের সারা দেশে দুর্ঘটনায়  প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৯৫জন। আহত হয়েছে আরো ২ হাজারের মতো

শুক্রবার ভোররাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে ট্রেনের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত এবং আহত  হয়েছে আরো অর্ধশত।

গত ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়  ৩৫ জন, সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক  এবং রেল-বাসের সংঘর্ষে ১১ জনসহ প্রায় ৯৫জন প্রাণ হারায়। এছাড়া  নৌ  দূর্ঘটনায় নিখোঁজ অর্ধশতাধিক এবং সড়ক  গুরুতর আহত প্রায় ২ হাজারের মতো।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রবক্তা ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাঙবাদিকদের বলেন, সারা বছরই দুর্ঘটনায় প্রচুর প্রাণহানি হয়। তারই ধারাবাহিকতা থাকছে ঈদের সময়েও। অপ্রত্যাশিত এ সব প্রাণহানি রোধে আমরা আন্দোলন করি, কিন্তু যারা দুর্ঘটনা রোধে কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী তাদের টনক নড়ছে না।’

ঈদের সময় হঠাৎ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বলেন, রাস্তায় বেপোরোয়া গাড়ি চালানোই বেশি দায়ি। রাজধানীর তিনটি বড় বাসস্ট্যান্ড- গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদে এই বিষয়ে চালকদের সতর্ক করার জন্য ভিজিলেন্স টিম কাজ করেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এআরসি) গবেষণার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে দেশে প্রতিবছরে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, আহত হয় প্রায় ৩৫ হাজার। বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি দশ হাজার যানবাহনে মৃত্যুর হার ৮৫ দশমিক ছয় ভাগ।

ঢাকা,২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম/একে