দীর্ঘদিন যাবত দেশের অন্যতম প্রাচীন জেলা কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি চলমান হয়ে আসছে। এনিয়ে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কুমিল্লাবাসী বহুবার হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচীও পালন করে। কিন্তু এত কিছুর পরেও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায, বাংলাদেশের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলে ১৭৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত, গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐহিত্যবাহী জেলার নাম কুমিল্লা। যা দেশের দ্বিতীয় আবাসিক রাজধানী হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্য অনেক জেলার তুলনায় উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এই জেলাটি। অথচ এ জেলায় জন্মেছেন ধীরেন্দ্রনাথ, মহীয়সী নারী নবাব ফয়জুনেচ্ছাসহ অনেক ব্যক্তিত্ব। যারা সবাই নিজ নিজ কর্মে কীর্তিমান।
পর্যায়ক্রমে সিলেট ও বরিশাল এবং রংপুরকে বিভাগ হিসেবে রূপান্তর করা হলেও সু-প্রাচীন এ জেলাটিকে এখনো পর্যন্ত বিভাগ করা হয়নি। সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জানুয়ারী) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আরেক প্রাচীন জেলা ময়মনসিংহকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলে এবারও উপেক্ষিত হলো কুমিল্লা। এতে করে ময়মনসিংহের জনসাধারণের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও কুমিল্লাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি ময়মনসিংহের সাথে সাথে কুমিল্লাকেও বিভাগ ঘোষনা করা হোক।
কয়েকজনের মতানুসারে, প্রথমে জেলার নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর দাগনভূঁইয়া, নোয়াখালীর সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী উপজেলার সমন্বয়ে নাঙ্গলকোটকে জেলা ঘোষনা করা হোক। পরবর্তীতে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ব্রাক্ষনবাড়িয়াসহ উপস্থাপিত নাঙ্গলকোট জেলার সমন্বয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠন করা হলে এই বিভাগের আয়তন হবে ১৩,৩০২ বর্গ কিলোমিটার।
যা আয়তনে সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়েও বড় হবে। এই সাত জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠিত হলে এখানকার জনসংখ্যা হবে প্রায় ২ কোটি। যা সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের জনসংখ্যারও প্রায় দ্বিগুন। এমতাবস্থায়, জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে সু-প্রাচীন জেলা কুমিল্লাকে উপস্থাপিত ৭টি জেলা নিয়ে বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
এসএইচ





