১৮ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জাদুঘর দিবস। ১৯৭৭ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নানা বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শণ সমূহ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পাশাপাশি বিশ্বসভ্যতায় নিজেদের তুলে ধরাই এ দিবসের উদ্দেশ্য। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাদুঘরের প্রভাব- এই স্লোগানে পালিত হচ্ছে এবারের বিশ্ব জাদুঘর দিবস ।

ধ্বসের কবল থেকে বিশ্বের প্রত্নতত্ব নিদর্শন রক্ষার জন্য ১৯৭৭ সালে লন্ডনে ৯০টি দেশের ২০,০০০ জাদুঘরের যৌথ প্রদর্শণীর আয়োজন করা হয়। সে বছর থেকেই পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব জাদুঘর দিবস।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে এ দিবসটি। জাতীয় যাদুঘর এবং আইকম বাংলাদেশের উদ্যোগে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

জাদুঘরের ধারণা অনেক বিস্তৃত ঊল্লেক করে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এখন আর মৃত জিনিসের সমাহারের নাম যাদুঘর নয়, এর বিস্তৃতি এখন ব্যাপক। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও নানা ধরণের যাদুঘর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে যতগুলো ঐতিহ্যবাহি দর্শণীয় স্থান রয়েছে সেগুলোকে আমরা যাদুঘরে রূপান্তর করব।

আমাদের দেশে জাদুঘর উন্নত নয় ঊল্লেখ করে বলেন, আমাদের স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই। আমরা জাদুঘর উন্নত করার চেষ্টা করছি। এজন্য আমরা নতুন একটি বিশ তলা ভবন করবো জাদুঘরের জিনিসপত্র সংরক্ষণের জন্য এবং প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিয়েছেন একটি ন্যাচারাল হিস্টোরিকাল জাদুঘর করার জন্য। উন্নত জাদুঘর করার জন্য বিদেশী সংস্থার সাহায্য নেয়া হবে বলে জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী।

জাদুঘরের বিষয়ে সরকারকে আরো আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, দেশব্যাপী ২০০ জাদুঘরগুলো সংরক্ষণ করে যাচ্ছি। জাদুঘরের নানামুখি গবেষণা বাড়ানো দরকার। ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শন কোনো গোষ্ঠীর নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ।

২৮০ খ্র্ষ্টীপূর্বাব্দে আলেকজান্দ্রিয়ার দার্শনিক টলেমী‘র প্রতিষ্ঠিত ফিলোসফি মিউজিয়ামই ছিল প্রথম জাদুঘর। বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামকেই সাড়াপৃথিবীর জাদুঘরের বাতিঘর মনে করা হয়।

আমাদের দেশে ১৯১৩ সালে গর্ভণর লর্ড কারমাইকেল ঢাকায় যে জাদুঘর স্থাপন করেছিলেন, সেটিই ১৯৮৩ সালে শাহবাগের অ্যাধুনিক ভবনে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর হিসেবে।

ইআর/এমবি