পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদরদপ্তরে সংগঠিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক যুগ পূর্তিতে (১২ বছর) আজ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের।

আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর সামরিক সচিব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

এরপর তিন বাহিনীর প্রধান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা জানান নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত কর্নেল কুদরত এলাহি রহমান শফিকের ছেলে সাকিব রহমান বলেন, এই হত্যার বিচার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। কিন্তু হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো বিচারের বাইরে রয়েছে। পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের বের করতে বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

নিহত লে. কর্নেল লুৎফর রহমানের ভাই আখলাকুর রহমান ও এহতেশাম রহমান বলেন, তাঁরা চান, এই দিনকে রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হোক। তাহলে আগামী প্রজন্ম এই দিন সম্পর্কে জানতে পারবে।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিএনপির নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১২ বছর পরও এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের চূড়ান্ত ফয়সালা এখনো হয়নি। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালান। নিষ্ঠুর আচরণ ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকের পরিবারের সদস্যরাও। দুই দিনব্যাপী ওই বিদ্রোহ শেষে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কোরআন খানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবে।

এমবি