বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণেই দেশে নির্ধারিত সময়ের আগেই হচ্ছে কালবৈশাখী। এ মত জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের।
তবে এ পরিবর্তন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত ৫ বছরের আবহাওয়ায় বেশিরভাগ সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঋতুর এ পরিবর্তনে ফসল উৎপাদন ও মাছের প্রজননের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
বৈশাখ আসেনি কিন্তু কাল বৈশাখী ঝড় অনেক আগেই হাজির। ঝড়, শিলাবৃষ্টি আর ঘূর্ণি বায়ুর প্রকোপ বাংলার ঋতুতে উপস্থিত হচ্ছে। বিগত ৫ বছরের এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড থেকে তাই দেখা যাচ্ছে। বেশীরভাগ বছরে স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেশী রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, এটা স্বাভাবিকের থেকে ১০৬ শতাংশ বেশি ছিল। ২০১৮ সালে এটা প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি ছিল। এখনো বৃষ্টি স্বাভাবিকের থেকে বেশিই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক গ্রিন হাউজ গ্যাসের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ১.২ ডিগ্রী বেড়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে বাতাসের গতি। যার কারণে কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালে দেখা যাচ্ছে।
তবে ঋতুর এমন পরিবর্তন নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নেই কোন তথ্য। আবহওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, সঠিক কারণ আমাদের কাছে নেই। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এটা হতে পারে।
জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, বিশ্বে যে বাতাসের সার্কুলেশন আছে, সমুদ্রের স্রোতের প্রবাহ আছে এগুলো বদলে যাচ্ছে।
এতে কৃষি উৎপাদন যেমন ব্যাহত হবে তেমনি মাছের প্রজননও ব্যাহত হবে বলে আশংকা জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের। আইনুন নিশাত বলেন, এর কারণে উদ্ভিদ জগতের প্রজনন ব্যহত হবে এবং খাদ্যের ঘাটতি দেখা হবে।
ঋতুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব চলতেই থাকবে। তবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন নিরাপদ করতে মৌসুমী আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য দেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এএস





