নড়াইলে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুঁইয়ে পথে বসতে চলেছে একটি পরিবার। পরিবারের সকল সদস্যকে অচেতন করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে প্রতারক চক্রটি।

ভুক্তভোগীর নাম মোঃ নজরুল শেখ (৪০)। সে নড়াইলের লাহুড়িয়া হেচলাগাতি গ্রামের মৃত ধলা মিয়া শেখের ছেলে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বুধবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে প্রতারক চক্রটি ইফতারিতে চেতনানাশক ঔষধ মিশ্রিত করে।

ঔষধ মিশ্রিত ইফতারি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সকল সদস্য খাওয়ার কিছু সময় পরই অচেতন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে প্রতারক চক্রটি ঘরের ভেতর থাকা সকল জিনিসপত্র লুটে নেয়। তারাবি নামাজের সময় তাদের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পাশের বাড়ির মোশাররফ ও ভুক্তভোগীর বড় ভাই কবীর তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা আরব আলী ব্যাপারির ছেলে আব্দুল ব্যাপারি (৫০) ও তার স্ত্রী পারুল পারভীন (৪৫) এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়াও ঘটনার পর থেকে তাদেরকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার গোবরগাড়া গ্রামে।

তারা বিগত দুই বছর পূর্বে কোন দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের সূত্র ধরে এ গ্রামে অবস্থান করতে থাকে। তাদের নিজস্ব কোনো বাড়িঘর নাই। তারা সরকারি খাস জমিতে কুঁড়েঘর বেধে বাস করে আসছিল। তাদের তিন পুত্র সন্তান ফারুক (২৫), শুকুর আলী (১৮) ও সুজন (৭) স্থানীয় জনগণের সাথে তেমন একটা মিশতো না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ফারুক কিছুদিন পূর্বে পার্শ্ববর্তী লাহুড়িয়া পঁচাশিপাড়া গ্রামে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। অনেক অনুসন্ধানের পরও অভিযুক্ত আব্দুল ব্যাপারি (৫০) ও তার স্ত্রী পারুল পারভীন (৪৫)সহ তাদের পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান জি.এম নজরুল জমাদ্দার বলেন, অভিযুক্তদের সন্ধানদাতাকে লক্ষাধিক টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কারণ তারা স্থানীয় জনগণের নিকট থেকে ও এনজিও থেকে নেওয়া অর্থ পরিশোধ করেনি।

উজ্জ্বল/এমএনজে