ঈদ সামনে রেখে চোরাচালানী একটি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফিটকিরি ঘোষনা দিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ টাকার শাড়ি, ফেব্রিক্স ও প্রসাধনী সামগ্রী আমদানি করায় বন্দর অভ্যন্তর থেকে ভারতীয় ট্রাকসহ একটি পণ্যচালান আটক করেছে বেনাপোল কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের ৩৪ নম্বর শেড এলাকা থেকে পণ্যবাহী ট্রাকটি বেনাপোল কাস্টমস হাউজে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সারাদিন ট্রাক থেকে পণ্য নামিয়ে পরীক্ষা করে তার মধ্যে দুই হাজার সাতশ‘৮০ পিস উন্নত মানের শাড়ি, ৪শ‘২০ কেজি সেনথেটিক ফেব্রিক্স, ৬শ‘৭০ কেজি ফেস ক্রিম পাওয়া যায়। কাস্টমস হাউসের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। মাঝে মধ্যে দুই একটি পন্য চালান ধরা পড়লেও রাঘব বোয়ালরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

কাষ্টমস হাউসের সহকারি কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ঢাকাস্থ ফারদিন ট্রেড ইন্টান্যাশনাল নামে বাংলাদেশি এক আমদানিকারক ভারত থেকে তিনশ‘প্যাকেজ (১৫ মেট্রিক টন) ফিটকিরি আমদানির জন্য গত ৪ এপ্রিল ব্যাংকে এলসি খোলেন। যার এলসি নম্বর-১৮৯১১৮০১০০৫৬।

পণ্যচালানটি নিয়ে ভারতীয় একটি ট্রাক (ডাব্লিউ-বি-২৩-এ-৩২৭৩) বৃহস্পতিবার বিকেলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। যার বিসিপি নং-১৮৫৪৭। কিন্তু পণ্য চালানে ফিটকিরির নামে উন্নত মানের শাড়ি, থ্রিপিচ আমদানি করা হয়েছে। এ ধরনের সংবাদের পর পরই বেনাপোল কাষ্টম হাউসের ইনভেজটিকেশন রিসার্স ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) টিমের একটি দল বন্দরের বাণিজ্যিক পণ্যের শেডগুলোসহ সন্দেহজনক ৩৪ নম্বর শেডের (গুদাম) আশে পাশে সুকৌশলে অভিযান চালানো হয়।

বিভিন্ন শেডের সামনে আনলোডের অপেক্ষায় থাকায় ২৩টি ভারতীয় ট্রাক পর্যায়ক্রমে তল্লাশী করা হয়। রাত ৮টার দিকে ৩৪ নং শেডের পিছন থেকে ভারতীয় ট্রাকটি আটক করা হয়। অভিযানের সময় ট্রাক চালক ও এজেন্ট পালিয়ে যায়। পরে ট্রাকের মধ্যে প্রাথমিক তল্লাশি করে ফিটকিরির পরিবর্তে উন্নত মানের শাড়ি সেনথেটিক ফেব্রিক্স  থ্রিপিচের চালান দেখতে পাওয়া যায়। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে আমদানি করায় পণ্য চালানটি আটক করা হয়েছে। আটককৃত পণ্য চালানটির মুল্য ট্রাকসহ ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৬৩ টাকা। এর মধ্যে মালের মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৮২ হাজার ৬৬৩ টাকা। শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বলে তিনি জানান। ঈদ সামনে রেখে কাস্টমস হাউসের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় একটি চক্র বেপরোয়া হয়ে এমন জঘন্য অপরাধ ও চোরাচালানের আশ্রয় নিয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মাদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, এমন হবার কথা ছিল না। ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট সবাই কথা দিয়েছিল অনিয়ম করা হবে না। সেভাবেই চলছিল। ছোটখাটো দোষক্রটি আমিও উপেক্ষা করে আসছিলাম। বিচার কাজেও নমনীয় হতে চেষ্টা করেছি। তবু এমন একটা ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরাও বসে নেই। খবর রাখছি। টাকা খরচ করে সোর্স নিয়োগ করেছি। ঈদ সামনে রেখে একটি চক্র বেপরোয়া হয়ে এমন জঘন্য অপরাধ ও চোরাচালানের আশ্রয় নিয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সতর্কতার কারণে সুবিধা করতে পারছে না। এখনো কেউ ট্রাক বা পণ্য দাবী করতে আসেনি। তদন্ত চলছে। এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে  মুদ্রাপাচার আইনসহ বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানান তিনি।

শেখ নাছির উদ্দিন/এসএম