শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের হত্যাকে মর্মান্তিক ও মানবতাবিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
মঙ্গলবার মন্ত্রীর আঞ্চলিক গণমাধ্যম সমন্বয়কারী আব্বাছ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী রাজন হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে বলা হয়, রাজন হত্যার বিষয়ে মন্ত্রী টেলিফোনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি রাজনের পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে এ হত্যাকান্ডে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। শিক্ষামন্ত্রী রাজনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই বুধবার সকালে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।
এরআগে কুমারগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজে ওই হত্যাকান্ডের পর একটি মাইক্রোবাসে তুলে রাজনের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় মুহিত আলমকে (২২) ধরে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।
জালালাবাদ থানা পুলিশ এরপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় মুহিত, তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়। শিশু রাজনকে নির্যাতনের ভিডিওটি জালালাবাদ থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।
নিহত সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে।
রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক। তার দুই ছেলের মধ্যে রাজন বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সামিউল সবজি বিক্রি করতো।
এসএইচ





