গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ’ নামে নতুন জঙ্গি সংগঠনের অর্থদাতা বাংলাদেশ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আব্দুল আলিমের ছেলে ফিরোজ মো. তমাল।
তিনি বলেন, ‘তমালই সাহসী, শক্তিবান ও কর্মঠ যুবক আসাদুজ্জামান আব্দুল্লাহ অনিককে খুঁজে বের করেন এবং তাকে এই সংগঠনের কমান্ডার বানান।’
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
এর আগে গতকাল বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার আব্দুল্লাহ ও তমালকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসময় তমালের ড্রয়ার থেকে ২টি পিস্তল ও আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ১টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ কমান্ডার আর তমাল অর্থদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
তমালের বাবার প্রচুর টাকা থাকায় সেই টাকা জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করেন। তমালের বাবা আব্দুল আলিমের ঢাকা শহরে এখন পর্যন্ত ১৭টি বাড়ি রয়েছে এবং আরো কয়েকটি বাড়ি কেনার জন্য খুঁজছেন।
নতুন এই জঙ্গি সংগঠন পরিচালনার জন্য তারা পদ্মার ওপারে একটি চরকে বেছে নিয়েছে বলে জানান তারা। সেই চরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করত সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তারা অর্থের বিনিময়ে একাজ করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে তারা সিরিয়া ও আফগানিস্তানে গিয়ে জিহাদ করার পর দেশে এসে খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থা দূর করার জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এক প্রশ্নের উত্তরে মনিরুল ইসলাম জানান, গত ৭ জুন ব্যাংক ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বনশ্রী এলাকা থেকে ছয়জন ও সূত্রাপুর এলাকা থেকে তিনজনসহ মোট নয় জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ল্যাব কর্মচারীসহ বিস্ফোরক বিক্রির অভিযোগে মোট চারজনকে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের কমাণ্ডার আব্দুল্লাহ ও অর্থদাতা তমালকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অভিযান পরিচালনাকারী গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, তমাল আইইউবি থেকে ট্রিপল ই বিষয় নিয়ে মাস্টার্স পাশ করেন। আর আব্দুল্লাহ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবিতে মাস্টার্স পাশ করেন।
এমকে





