বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে ট্রেনের ইঞ্জিন ও ছাদে ভ্রমণের দায়ে ১৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। লোকাল ও কমিউটার ট্রেন গুলোতে কোনো যাত্রী যেন অবৈধভাবে ছাদে বা ইঞ্জিনে যাত্রা করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন ট্রেনে এবং ঢাকায় আসা ট্রেনগুলোতে কোনো যাত্রী যেন অবৈধভাবে ভ্রমণ করতে না পারে সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

ঢাকা বিভাগের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহ বলেন, 'সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ২১৩ নম্বর ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি লোকাল ও কমউিটার ট্রেনের ছাদ থেকে আটক করা হয় তাদের। আটকৃতরা আইনভঙ্গ করে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ করছিল তাই তাদের আটক হয়েছে। আটক যাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আলাদতে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরো বলেন, 'বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে আমরা মাঠে আছি। কোনো যাত্রীকে আমরা ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ করতে দেব না। এ অভিযান চলমান থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো আমিনুল হক বলেন, 'বাংলাদেশ রেলওয়ে গণপরিবহনের নিবেদিত একটি সরকারি সংস্থা। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করেন। কিছু ব্যক্তি বেআইনিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ করেন। জীবনের ঝুঁকই নিয়ে তারা এভাবে ভ্রমণ করেন। সে জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে'।

তিনি আরো বলেন, 'আমি সকল যাত্রীদের অনুরোধ করব জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। অনিরাপদ ভ্রমণে আপনার অঙ্গহানি বা জীবনের বিপন্ন হতে পারে। তাই এ ধরনের বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে'।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এসএম