চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হলো এক গৃহবধূ ও প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তিকে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়া ও ফতেহপুর ওয়ার্ডের মেম্বার ফারুক হোসেনের নির্দেশে তাদেরকে নির্যাতনের পর কোমরে দড়ি বেধে এলাকা ঘোরানো হয়।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ নাম পারুল আক্তার (২৫)। আর বিদেশ ফেরত ব্যক্তি হলেন মো. সবুজ হোসেন (২৮)। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নে ফতেহপুর আখঞ্জী বাড়িতে মঙ্গলবার রাত ৩ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ করা হয়, তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এমন সন্দেহে দুইজনকে আটক করে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে দুই জনের কোমরে দড়ি বেঁধে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে চণ্ডিপুর ইউপিসহ উপজেলাব্যাপী সর্বত্র তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূ ও প্রবাসীকে হুমকি-ধামকীসহ এলাকা থেকে বিতাড়িত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সময় চেয়ারম্যান ও মেম্বার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রবাসী ও গৃহবধূর কাছ থেকে ৪টি স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২ লাখ টাকা মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী সবুজ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়ে দিয়ে ঘর থেকে বাহিরে যায় সে। পরে হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুরের ঘাটলায় গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একই বাড়ির বাবুল, রুবেল, আরিফ, হানিফ, রিপনসহ কয়েকজন তাকে ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে সুপারি বাগানে গাছের সাথে বেঁধে পার্শ্ববর্তী আবদুর রহমানের স্ত্রী পারুল আক্তারের ঘরের দরজা ভেঙে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতের অভিযোগ এনে পারুলকে টেনে হিঁচড়ে বেদম পিটিয়ে তার পাশে আরেকটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বর এসে স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষর নেয়। এরপর রাত ৩টা থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় চলে তাদের উপর নির্যাতন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফারুক মেম্বার সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পারুল খুব খারাপ মেয়ে। এর আগেও গত রমজানে সে সবুজের ভাইয়ের সাথে অনৈতিক কাজে রুবেলের হাতে ধরা পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। পারুলের এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন কোমরে দড়ি বেঁধে ঘুরিয়েছে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূঁইয়ার সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোতা মিয়া জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।
এমএনজে





