যৌনকর্মী- শব্দটি শুনলেই সমাজে সেই মানুষটিকে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। শুধু তাই নয়, ঘৃণিত পেশা বলে মৃত্যুর পরও অবজ্ঞার শিকার তারা। কোনো যৌনকর্মী মারা গেলে তাকে দেওয়া হতো নদীতে ডুবিয়ে কিংবা মাটিচাপা।

নিয়ম ভাঙার ইতিহাসটা শুরু হয়েছে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর এক কর্মীর পারভীন বেগমের (৪৮) নামে মৃত্যুর পর শত বছরের প্রথা ভেঙে পড়ানো হয় জানাজা।

তারই ধারাবাহিকতায় গত রাতে এক যৌন কর্মীর মৃত্যুর পর জানাজা হয়েছে। এতে অংশ নেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ সুপারসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

জনপ্রতিনিধিরা জানান, সব যৌনকর্মীর মৃত্যুর পরই জানাজা পড়ানো হবে। মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবলেই সব অশুভ শক্তিকে দূর করা সম্ভব।

আজ শনিবার বেলা ২টায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সংলগ্ন কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

এরআগে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাতে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর প্রবীণ যৌনকর্মী হামিদা বেগমের (৬৫) নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বেশ প্রশংসা পায়। এর পেছনে বিশাল অবদান রাখেন গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।

জানাজা পড়ান দৌলতদিয়া রেলস্টেশন মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা

এরপর দ্বিতীয় নামাজে অনুষ্ঠিত হয় ২০ শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। রাত ১০টার দিকে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের উদ্যোগে রিনা বেগম নামের ওই যৌনকর্মীর জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তাকে পল্লীর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শ্রকবার রাতে পল্লীর মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ের পারভীন বেগম। পরে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এএস