শীত জেঁকে বসেছে দিনাজপরে। গত তিন দিন ধরে বিরুপ আবহাওয়া বইছে এ অঞ্চলে। চলছে রোদের লুকোচুরি খেলা। দুপুরের আগে দেখা মিলছে না সূর্যের মুখ। তাও আবার কিছুক্ষণ থাকার পরই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সূর্য। হিমেল বাতাসের ঝাপ্টায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। একদিন আগেও যেখানে খুব বেশি শীত অনুভূত হয়নি সেখানে শনিবার ভোর থেকে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে।

আকস্মিক শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার ফলে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে বস্ত্রহীন ছিন্নমূল মানুষেরা শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে। শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এসব দরিদ্র মানুষের জীবন আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়াবিদরা।

উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরে গত তিন দিন থেকে হিমেল বাতাস বইতে শুরু করায় বেড়েছে শীতের মাত্রা। কুয়াশার প্রভাব তেমনটি না থাকলেও হিমেল বাতাসের ঝাপ্টায় দূর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষেরা। পাশাপাশি গত ৩ দিন ধরে সূর্য খেলছে লুকোচুরি খেলা। দিনের মাত্র ২/৩ ঘণ্টা সূর্য মুখ দেখা গেলেও গরমের উষ্ণতা মাত্র নেই। শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে ছিন্নমূল মানুষেরা খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় তারা অপেক্ষায় আছে সরকারীভাবে গরম কাপড় সাহায্যের জন্য।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে কমতে শুরু করেছে বাতাসের আদ্রতা। শুক্রবার বাতাসের আদ্রতা ৮৭ শতাংশ ও শনিবার বাতাসের আদ্রতা ৯০ শতাংশ ছিল। রোববারও বাতাসের আদ্রতা সর্বনিম্ন ৯০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়। গত ৩ দিন ধরে শীতের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে পারছে না।

পৌষ মাস না আসলেও এবং কুয়াশার প্রভাব না থাকলেও হিমেল বাতাসের ঝাপ্টা শীতেরর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে শীত অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে কষ্ট দেখা দিয়েছে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে। শীতবস্ত্র না পাওয়ায় এসব মানুষেরা বহু কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। বস্তি এলাকায় ঝুপড়ি করে কোন রকমে খেয়ে দিনাতিপাত করে অসংখ্য মানুষ। শীতের কাপড় কেনার ক্ষমতা নেই তাদের।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ আশিকুর রহমান জানান, গত ৩ দিন ধরে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তা কিছুদিন থাকবে এবং রাতের সময় শীতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসের শেষের দিকে এ অঞ্চলে একটি শৈত্যপ্রবাহ আসার সম্ভাবনা আছে। তারই পূর্বাভাস হিসেবেই হয়ত হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়েছে।

এদিকে হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে বস্ত্রহীন ছিন্নমূল মানুষেরা শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে। শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এসব দরিদ্র মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এআর