সিলেট নগরীর রাস্তায় পড়ে থাকা বিদেশি নাগরিক মার্কুকে (৪৩) শহীদ শামছুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের মীরবক্সটুলা এলাকায় হঠাৎ রিকশা থেকে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ফিনল্যান্ডের নাগরিক মার্কু। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন সন্দেহে ওই বিদেশির কাছে প্রথমে যাচ্ছিলেন না কেউই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশও ভয়ে ওই বিদেশির পাশে যায়নি। এরপর ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স আসে। তবে অ্যাম্বুলেন্সে কারা রোগীকে তুলবেন এ নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। কারণ পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী, কেউই এই রোগীর কাছে যেতে রাজি নয়।

অ্যাম্বুলন্সের সঙ্গে আসেন মাত্র একজন লোক। রোগীকে স্ট্রেচারে তোলার জন্য আরেকজনের সাহায্য প্রয়োজন। এ অবস্থায় পুলিশ-জনতা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর স্থানীয় একজনের সহায়তায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই বিদেশি বর্তমানে নগরের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকসাধীন। করোনা সংক্রমণের পর সিলেটে এই হাসপাতালেই আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। কেভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন রোগীদের এখানে চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কু গত দেড় মাস ধরে সিলেটে অবস্থান করছিলেন। নগরের হাওয়াপাড়া এলাকার হোটেল নাজালের ৩০ নম্বর রুম ভাড়া নিয়ে থাকেতন তিনি। তিনি কোনো অসুখে ভোগছিলেন কী না তা জানা যায়নি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, সন্ধ্যায় মার্কু নামে ফিনল্যান্ডের এক নাগরিককে মীরবক্সটুলা এলাকার খায়রুন ভবনের পাশে পড়েছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে তাকে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন। তিনি আরও বলেন, মার্কু অজ্ঞান হওয়ার পর আশপাশের মানুষদের মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক দেখা দেয়। আক্রান্ত সন্দেহে এলাকাবাসী বা প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউই তাকে মাটি থেকে উঠাতে সাহস পায়নি।

এমবি