পুলিশের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি ঢাকার গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বরের এক বৈঠকে আওয়ামী লীগসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো যাতে দেশের কোথাও সংগঠিত হয়ে তৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় টহল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা পাঠানো হয়।
বিভিন্ন এলাকার থানার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুলশানের মিছিলের পর প্রশ্ন
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের আগে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলটি কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
পুলিশের দাবি, এ সময় মিছিলকারীদের দিক থেকে অন্তত দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি তাজা ককটেল উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল করতে পারলেন, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও এ ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার
গুলশানের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন এবং গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ডিএমপির আদেশে তাদের প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানকেও প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কারণ প্রশাসনিক বলে জানানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নামে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের ওপর বাড়ছে নজরদারির চাপ
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বন্ধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থাও হতে পারে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে সরকারের কাছে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে পুলিশ ওই সময় পরিস্থিতিটি আগেভাগে অনুমান করতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের নতুন নির্দেশনার ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতা ঠেকাতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এস





