ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। ৩০ বছর পর খ্রিস্টান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান কোনো ধর্মগুরু বাংলাদেশ সফরে এলেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ৩টার কিছু আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি অবতরণ করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ পোপকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

একই সঙ্গে তাকে গার্ড অব অনার’সহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। পোপকে স্বাগত জানাতে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য’সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূত’সহ কূটনীতিকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

পোপের সার্বজনীন এ সফরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিকে পুষ্পমাল্য অর্পন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।  আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য দেবেন পোপ ফ্রান্সিস। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে বিকেল ৪টায় যাবেন প্রধান গির্জা পরিদর্শনে। সেখানে তিনি বিশপ ও জ্যেষ্ঠ যাজকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শেষে সেখানে শান্তির জন্য আন্তধর্মীয় ও সর্বজনীন ঐক্য বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

সফরের তৃতীয় ও শেষ দিন শনিবার সকাল ১০টায় পোপ ফ্রান্সিস রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদার তেরেসার বাসভবন পরিদর্শনে যাবেন। সেখান থেকে হলি রোজারি গির্জার যাজক, ধর্মীয় নারী-পুরুষ এবং অন্যদের সামনে বক্তব্য দেবেন তিনি। এর পর সেখান থেকে প্যারিস কবরস্থান ও প্রাচীন গির্জা ঘুরে দেখবেন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে নটর ডেম কলেজের তরুণদের সামনে বক্তব্য রাখবেন পোপ ফ্রান্সিস। বিকেল পৌনে ৫টায় তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

১৯৭০ সালে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের ১৪ দিন পর ২৬ নভেম্বর তৎকালীন পোপ ষষ্ঠ পল ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে বাংলাদেশে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেছিলেন। আর পূণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় এবং পালকীয় সফরে ১৯৮৬ সালের ১৯ নভেম্বর পোপ দ্বিতীয় জন পল বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

এমবি