রাজশাহী নগরীর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সাচ্চু আলী (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে গরম তেলের মধ্যে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শনিবার রাতে সাচ্চুর পরিবারের সদস্যরা নগরীর মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ একটি লিখিত অভিযোগ নিয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বেল ও তার ভাইসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাচ্চুর বাড়িতে আগুন দিয়ে তার কলেজপড়ুয়া মেয়েদের গণধর্ষণ করার হুমকি দিচ্ছে বলে ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

আহত সাচ্চুর বোন খালেদা আকতার জানান, নগরীর বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাচ্চু আমের মৌসুমে স্থানীয় ৩০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রাব্বেল আলীর কাছে কয়েক দফা বাকিতে আম বিক্রি করেন। সেই সময় রাব্বেল আমের দাম বাবদ ৩ হাজার ৮০০ টাকা পরে পরিশোধ করবে বলে জানান।

সাচ্চু তার বসতবাড়িসংলগ্ন একটি ছোট দোকানের মাধ্যমে সংসার চালান। রাব্বেল আমের টাকা পরিশোধ না করে আবারো সাচ্চুর দোকান থেকে বিভিন্ন সময়ে বাকিতে ২ হাজার ৫০০ টাকার খাবার নিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে সাচ্চু রাব্বেলের কাছে তার পাওনাকৃত ৬ হাজার ৩০০ টাকা চাইলে, আজ দেব কাল দেব করে টালবাহানা শুরু করেন।

একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাতে সাচ্চুর সঙ্গে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে রাব্বেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় রাব্বেল সাচ্চুকে মারধর করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে দোকানের কড়াইয়ের গরম তেলের মধ্যে তাকে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা সাচ্চুকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

এদিকে হাসপাতালে গিয়েও সাচ্চুর স্ত্রী শিমা বেগমকে রাব্বেলের ভাই মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন এক হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে তার স্বামীকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেন। এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের না জানানোর জন্য বলেন।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাবশত সাচ্চু অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। তিনি উল্টো দাবি করেন, সাচ্চুর চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) হুমায়ূন কবির জানান, এ ঘটনায় শনিবার রাত ১০টার দিকে সাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী শিমা বেগম আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বেল আলীসহ তার কয়েক ভাইকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।

এ ব্যপারে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন জানান, তিনি বিষয়টি জানতেন না। তবে এ ব্যাপারে প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কেএইচ