নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আজ শনিবার আবারও হরতাল ডেকেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। তবে এবার তিনি হরতাল ডেকেছেন সকাল–সন্ধ্যা।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বসুরহাট পৌরসভার মিলনায়তন থেকে হরতালের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মিছিল বের করে কোম্পানীগঞ্জে থানা ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে কাদের মির্জার কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে থেমে থেমে তাদের মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।

নোয়াখালী ও ফেনীর দুই সাংসদের অপরাজনীতি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও পরিদর্শক তদন্তকে প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে আবদুল কাদের মির্জার ডাকে গত বৃহস্পতিবার হরতাল পালিত হয়।

এর আগে শুক্রবার বিকালে চাপরাশিরহাট বাজারে কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল অনুসারী আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের কাদের মির্জা নিজের অনুসারী দাবি করে এবং তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে এ হরতালের কর্মসূচি দেয়া হয়।

সংঘর্ষের ঘটনাস্থল থেকে আসার সময় চরকাঁকড়া টেকেরবাজার নামক স্থানে বাদল গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ফখরুল ইসলাম সবুজের নেতৃত্বে রাস্তায় ব্যারিকেড দিলে আবদুল কাদের মির্জা গাড়িবহরসহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

কয়েক ঘণ্টা পর কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ, অতিরিক্ত রিজার্ভ পুলিশ ও র্যা বের কয়েকটি গাড়ি গিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে দিয়ে মেয়র কাদের মির্জাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের কাদের মির্জা জানান, এমপি একরাম চৌধুরীর বাড়িতে শুক্রবার দুপুরে বৈঠক শেষে সন্ত্রাসীদের দুই ভাগে বিভক্ত করে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছ। এর মধ্যে বাদলের নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট ও সবুজের নেতৃত্বে টেকেরবাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মিজানুর রহমান বাদল, চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, নজরুল ইসলাম শাহীন, হাসিবুস শাহীদ আলোক, ফখরুল ইসলাম সবুজ, ভাগিনা ফখরুল ইসলাম রাহাত, মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, মাহবুবুর রহমান আরিফ অস্ত্র নিয়ে গুলি করেছে।

অন্যদিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল এ ঘটনার জন্য মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার সমর্থকদের দায়ী করেছেন।

তিনি তার ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, গত দুই মাস যাবত আবদুল কাদের মির্জা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আসছেন।

এর প্রতিবাদে একটি সংবাদ সম্মেলন করার জন্য শুক্রবার বিকালে তার এলাকা চরফকিরা ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের ডাক দেয়া হয়। এতে কাদের মির্জার নেতৃত্বে শত শত অস্ত্রধারী সেখানে হামলা চালায়। এতে তার বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এএস