জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি সরকারি অফিসের কার্যক্রম চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। পরিত্যক্ত ঘোষণার দেড় বছর পরও ওই ভবনগুলোতেই দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভবন সংকটের কারণে হয়তোবা আরও কিছুদিন এ অবস্থায় চলতে হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। এরপর কয়েকবার রং বার্ণিশ ছাড়া এতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি।
উপজেলা পরিষদের বড় দু’টি ভবনে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। ওই দুই ভবনেই রয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী, কৃষি সম্প্রসারণ, মাধ্যমিক শিক্ষা, সমবায়, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, হিসাব রক্ষণ, মৎস্য, যুব উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কার্যালয়। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পল্লী উন্নয়ন ও ভুমি অফিসসহ মোট ২০টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরও ওই ঝুকিপূর্ণ দুই ভবনেই অবস্থিত।
ভবন দু’টি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় ২০১৩ সালের ৫ মে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ওই কমিটিকে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওই বছরের ৮ মে ভবন দু’টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি। কমিটির সুপারিশে, যথাশীঘ্র সম্ভব সব কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে ভবন দু’টি ভেঙ্গে ফেলার কথাও বলা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের দক্ষিণের দেয়াল ও বারান্দায় প্রায় এক ইঞ্চি চওড়া ফাটল ধরেছে এবং দেয়ালটির বারন্দার দিকের অংশ সামনে হেলে পড়েছে।
একইভাবে, ফাটল দেখা দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পেছনের দেয়ালেও। ওই অফিসের মেঝেটি প্রায় চার ইঞ্চি দেবে গেছে। এছাড়া ভবন দু’টির অন্যান্য অফিসগুলোরও কম-বেশি একই অবস্থা।
উপজেলা প্রককৌশলী এ কে এম মাছুদুর রহমান জানান, আসলে প্রতিটি অফিসের অবস্থাই খারাপ। এ কারণে, কিছু অফিস খুব শিগগিরই উপজেলা আবাসিক ভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আব্দুল্লাহেল বাকী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের সব ক’টি অফিসই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অচিরেই আমরা অফিসগুলো স্থানান্তর করে এই ভবন ভেঙ্গে ফেলব। নতুন ভবন তৈরির বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





