কুষ্টিয়ার মিরপুরে আরিফুল ইসলাম রিফা নামে এক ফল ব্যবসায়ীর বসতঘরে ফের ১১টি বিষধর গোখরা সাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাসাপসহ ১০টি বাচ্চা রয়েছে।
রোববার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের মোচাইনগর গ্রামের ফল ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম রিফার বাড়ি থেকে এ সাপগুলো উদ্ধার করা হয়।
আরিফুল ইসলাম রিফা জানান, দুপুরে বাজার থেকে বাড়িতে এসে দেখি দুইটা গোখরা সাপের বাচ্চা ঘরের মেঝেতে ছোটাছুটি করছে। তারপর সাপ দুটোকে মারতে গিয়ে আরো একটি গোখরা সাপের বাচ্চা দেখা যায়।
আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় সাপুড়ে আনারুল ইসলামকে খবর দেয়া হয়। তিনি এসে কড়ি চালান দিয়ে বুঝতে পারেন সেখানে আরো সাপ আছে। সাপুড়ে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে একে একে সাপগুলোকে উদ্ধার করেন।
সাপুড়ে আনারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কড়ি চালান দিয়ে বুঝতে পারি আরো সাপ আছে। পরে মাটি খুঁড়ে একে একে ১১টা সাপ উদ্ধার করেছি। ধারণা করছি আরো সাপের বাচ্চা আছে। এ নিয়ে গত ৬দিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও খোকসা উপজেলা থেকে ১০৩টি গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
সবশেষ গত ১৪ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার মিরপুরে ইসাহক আলী নামে এক ব্যক্তির বসতঘর থেকে ১৬টি বিষধর গোখরা সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে।
উপজেলার আমলা ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকার ইসাহক আলীর ঘরে এই বিষধর গোখরা সাপগুলো পাওয়া যায়। ইসাহক আলী জানান, সন্ধ্যায় ঘরের মেঝেতে ৩টি সাপের বাচ্চা দেখা যায়।
পরে আরো ১টিকে দেখতে পাওয়া গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের মেঝে খুড়ে একে একে ১২টি গোখরা সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। এরআগে গত ১২ জুলাই বুধবার কুষ্টিয়ার খোকসায় বসতবাড়ি থেকে ৪৮টি গোখরা সাপ ধরা পড়ে।
উপজেলার চুনিয়াপাড়া এলাকার অসিম কুমার বিশ্বাস এর থাকার ঘর থেকে এই বিষোধর গোখরা সাপ ধরা হয়। বাড়ির মালিক ওয়াসিম জানান, দুপুরের ঘরের মেঝেই একটি সাপ দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক স্থানীয় সাপুড়িয়া গফুর আলীকে খবর দিয়ে বাড়িতে ডেকে আনা হয়।
প্রায় ১ ঘন্টা সময় ঘরের মাটি কাটার পর ঘরের মেঝের মাঝখানে একটি স্থানে ২৫টি সাপ পাওয়া যায়। পরে অন্য স্থানে বাকি সাপ পাওয়া গেছে। এদিকে গত ১০জুলাই কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে ২৮টি গোখরা সাপ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ২৭টি বাঁচ্চা আর ১টি মা সাপ। স্থানীয়রা বাচ্চা গুলোকে মেরে ফেলে। তবে মা সাপটিকে ধরে রাখা হয়। উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সদরপুর স্কুল পাড়ার নাজমুল ইসলাম লিটনের রান্না ঘর থেকে এ সাপ গুলো পাওয়া যায়।
সবুজ/এমএনজে





