ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে এই সড়ক দিয়ে ছয়দিন ধরে যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত ১৮ জুন থেকেই সিলেট থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এতে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা। এবার সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল রোববার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় আন্ত:নগর উপবন এক্সপ্রেসের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ভয়ানক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরো অন্তত দুই শতাধিক।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিকের বগিতে বিকট শব্দ হয়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে সামনে বড়ছড়া ব্রিজ ভেঙে একটি বগি পড়ে যায়। আরো তিনটি বগি ব্রিজের পাশে উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ছাড়া অন্য দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।’
ভাঙ্গা সেতুটি মেরামতে বেশ কয়েকদিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ের সরাইলে ভেঙে সেতুটি মেরামতে আরও ১০দিনের মত লাগতে পারে।
ফলে ১০ দিনের আগে স্বাভাবিক হচ্ছে না সড়কপথ। ১৮ জুন সড়কপথ বন্ধের পর থেকেই ট্রেনে ভিড় করছিলেন সিলেটের যাত্রীরা।
প্রতিদিনই বাড়তি যাত্রী নিয়ে সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল করতো। তবুও টিকিট না পেয়ে হাহাকার লেগেছিলো যাত্রীদের।
এই অবস্থায় ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ হয়ে পড়লো। ফলে সিলেটের যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন আরও বাড়বে। জরুরি প্রয়োজনেও ঢাকায় যাওয়ার জন্য বিমান ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকলো না।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের স্টেশন মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম এবং শমসের নগরের স্টেশন মাস্টার কবির হোসেন বলেন, বরমচাল এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কবে চালু হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
জেড





