ক্রমান্বয়ে ভয়ানক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে তিস্তা নদীর পানি। বর্তমানে বিপদ সীমার ৫০ সে: মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এই নদীর পানি।

এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে তিস্তা পাড়ের লোকজনের মধ্যে। বর্তমানে বাঁধ ও রাস্তা ভেঙ্গে হাতীবান্ধা শহরে প্রবেশ করছে এ নদীর পানি। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরো চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিস্তার চরের লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সাথে তিস্তা ব্যারাজ ও চর এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বন্যার পানি হাতীবান্ধা শহরসহ লোকলয়ে প্রবেশ করায় জেলার লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা পাড়ের লোকজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে বালু বস্তা দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও খালি বস্তার সংকটে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। রাত বাড়ার সাথে সাথে পানি বাড়লেও জন প্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের মিলছে না দেখা।

এদিকে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। ঢলের গর্জনে পানিবন্দি এসব মানুষের চোখে এখন ঘুম নেই। অন্যদিকে পাঁচদিন ধরে রান্না করতে না পারায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে ভুগছেন তারা।

তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে পাউবো ‘ফ্লাড বাইপাস’ কেটে দিতে পারে। এ বাঁধ কেটে দিলে গোটা লালমনিরহাট জেলার লক্ষাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়বে। শত শত কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হবে।

তবে পানির এই অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়েছে ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেওয়ায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিস্তা ব্যরাজ দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারণা করা যাচ্ছে না। পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ গেটই খুলে দেয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, আমি বন্যা এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখছি। যেখানে যা প্রয়োজন সেই ভাবেই সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। জেলার বন্যাদুর্গত পরিবারগুলো জন্য ১১শ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার প্রায় ১২শ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

সরকার/জেড