কুষ্টিয়া শহরে জাতীয় শোক দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের শোক র‌্যালি শেষে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সবুজ নামে স্থানীয় এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের মজমপুর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সবুজ হোসেন (২৪) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঢাকা ঝালুপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় যুবলীগের কর্মী ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকালে জেলা আওয়ামী লীগ শহরে শোক র‌্যালি বের করে। এতে সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের মজমপুর রেলগেটে গিয়ে শোক র‍্যালিটি শেষ হয়। এরপর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক হয়ে যায়। এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিছিল ও শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমানের মিছিল মুখোমুখি হলে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষের সময় তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার বলেন, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের অস্ত্রোপাচার কক্ষে সবুজ মারা যান। তাঁর বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে, সংঘর্ষ লিপ্ত দুই গ্রুপের কাছেই পিস্তল ছিল জানিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার আবু বকর বলেন, সংঘর্ষে অন্তত ৫০জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৬ জন।

নিহত সবুজের চাচাতো ভাই বকুল হোসেন বলেন, মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। এতে সবুজ গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সবুজ দলের কোনো পদে না থাকলেও মোমিনুর রহমানের হয়ে মিছিলে গিয়েছিলেন বলেও জানান বকুল।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দু'জন নেতার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম বলেন, সংঘর্ষে একজন মারা গেছে। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কেএইচ/কেবি