দীর্ঘ ২৫ বছর পর শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেলেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার রতন মিয়া।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সচ্ছল পরিবারের সদস্য রতন মিয়া (৫৫)। চোখেমুখে তার কৈশোর-যৌবনের ফেলা আসা স্বাদ-স্বপ্ন আর দুর্বিসহ জীবনের না বলা বেদনার ছাপ। তিনি সব দুঃখ বেদনা প্রকাশের শক্তি হারিয়েও আজ নির্বাক।

মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ার পর ২৫ বছর ধরে একটি ছোট্ট অন্ধকার কক্ষে বিনাচিকিৎসায় কাটাচ্ছিলেন শিকলবন্দি হয়ে।

মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মো. নাহিদ হাসানের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ রতন মিয়াকে উদ্ধার করা হয়। তাকে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

রতন মিয়া উপজেলার দক্ষিণ ষাটিয়াদী গ্রামের হাজীবাড়ির মৃত আবদুল মোমেনের ছেলে।

পাকুন্দয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে শিকলবন্দি রতন মিয়ার করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয়।

প্রথমে রতনের চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রতন মিয়াকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ নং কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে দুইজন গ্রাম পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় রতনের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তার শরীরে রক্ত শূন্যতা আছে। তিনি অপুষ্টিতে ভুগছেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে সুস্থ্য করে তোলা হবে।

রতনের স্বজনদের দাবি- তাকে ২৫ বছর আগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। অন্যের ক্ষতি করতে পারে এমন ভয়ে রতন নির্জনে বেঁধে রাখা হয়।

জন্মদাতা মা-বাবার অবর্তমানে ভাইয়ের গলগ্রহ হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছিলেন রতন মিয়া। অথচ একসময় এই প্রাণোচ্ছল সৌখিন যুবক রতনের বাঁশির সুর মুগ্ধ করত এলাকাবাসীকে।

শিকলবন্দি রতনের এ ঘটনাটি এতদিন লোকচক্ষুর আড়াল থাকলেও নতুন প্রজন্মের সচেতন তরুণরা জানতে পেরে অমানবিক ঘটনা বিবেচনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমানও জানালেন, চিকিৎসা না করিয়ে কাউকে শিকলবন্দি রাখা শুধু মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয়, গুরুতর অপরাধও বটে। ৩০ বছর পর উদ্ধার রতন মিয়ার উচ্চতর চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিলেন তিনি।

এএস