সম্প্রতি বেড়ে গুম-খুনে উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরী ভিক্তিতে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীকে আহবান জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিক্তির মানবাধিকার সংস্থা এইচ আর ডব্লিউ (Human Rights Watch)।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেয়া একটি চিঠিতে এ আহবান জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তারা জানায়, বাংলাদেশে নির্বাচন কেন্দ্রিক গুম-খুনের ঘটনা বেড়ে যায়। যেটা খুবই উদ্ধেগজনক। যাদেরকে গুম করা হয় তাদের কোন হদিস পাওয়া বা খবর দেয়া হয় না এবং সরকার থেকেও এই বিষয়ে ভালোভাবে কোন মনিটরিং করা হয় না।

চিঠিতে তারা আরও জানায়, বেশিরভাগ গুম-খুনের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার কথা শুনা যায়। রাজনৈতিক অথবা অনেক সময় ব্যাক্তিগত উদ্দেশ্যে তারা এই কাজ করে। যেটা কখনোই প্রত্যাশিত না।

এক্ষেত্রে সংস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আহবান জানানো হয় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা তৈরি করতে। যেখানে থেকে স্বাধীনভাবে সব গুন-খুনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। এক্ষেত্রে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেয়া হবে বলে চিঠিতে তারা জানান।

চিঠিতে বিবৃতিতে সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, গুম এবং গোপনে আটক বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি আতঙ্কের বিষয় হয়ে গেছে। এই আতঙ্ক মানুষের স্বাধীন জীবনযাপনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রাড অ্যাডামস আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর তৃতীয় দফা মেয়াদের শেষ ধাপে উপনীত হচ্ছেন। আক্রান্ত পরিবারগুলোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে পড়া এই সমস্যা সুরাহা করতে একটি নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

চিঠিতে বলা হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অন্তত ৮০টি গুমের ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। এদের মধ্যে পরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৭ জন। আর ১৭ জন এখনো নিখোঁজ। তবে প্রকৃত গুমের ঘটনা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা হয়তো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

জেড