রাজধানীর কলাবাগানে  জুলহাজ নামের এক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা ও তার বন্ধু তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

সোমবার বিকেলে উত্তর ধানমন্ডির কলাবাগানের তেঁতুলগলি এলাকার ৩৫ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ওই বাসায় আজ বিকেলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পার্সেল দেওয়ার নাম করে ওই বাসায় ঢুকে কুপিয়ে দুজনকে হত্যা করে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মীকেও কুপিয়ে আহত করে।

আহত নিরাপত্তাকর্মী পারভেজকে (১৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাঁ চোখের ওপরে কুপিয়ে জখম করা হয়।

তিনি বলেন, 'বিকাল ৫টার দিকে ১০/১২ জন লোক এসে আমাকে বলেন- আমরা জুলহাজ সাহেবের বাসায় যাবো। আমি তাদেরকে বলি- আপনারা নিচে অপেক্ষা করুন, আমি ওপরে (দোতলায়) গিয়ে অনুমতি নিয়ে আসি।'

তিনি বলেন, 'আমি ওপরে ওঠার সময় আমার পেছন পেছন তিন-চারজন ওপরে উঠে যায়। আমি কলিং বেল চাপতেই জুলহাজ সাহেব দরজা খোলেন। তখন আমি ওই তিন-চারজনকে বললাম- আপনারা কেন ওপরে আসলেন, আপনাদের তো নিচে অপেক্ষা করার কথা।'

পারভেজ বলেন, 'এ কথা বলতেই তারা আমাকে কোপাতে শুরু করেন।'

এরপর কী ঘটেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেছেন না তিনি।

নিহত জুলহাজ মান্নান সমকামী ও হিজড়াদের অধিকার সম্পর্কিত ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ এর সম্পাদক ছিলেন। জুলহাজ সবশেষ ইউএসএইডের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, কলাবাগানের যেই বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেটির মালিকও ছিলেন নিহত জুলহাজ এবং তিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনির খালাতো ভাই।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত জুলহাস সমকামী বিষয়ক পত্রিকা ‘রূপবানে’র সম্পাদক ছিলেন। এমনকি গত পহেলা বৈশাখে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সমকামীদের নিয়ে মিছিল করতে চান, পরে পুলিশের হাতে আটকও হন।

নিহতের প্রতিবেশী এক নারী সাংবাদিকদের বলেন, বিকেলে ডাকাত, ডাকাত চিৎকার শুনে ওই বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করি। প্রথমে যেতে না পারলেও পরে ঘরে গিয়ে দেখি চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে আছে।

‘এ সময় ঘরের ডান দিকে দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতেও দেখি,’ বলেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানায়, ডাকাত ডাকাত চিৎকারের পর ওই বাসা থেকে আনুমানিক ছয় থেকে সাতজনকে দৌড়ে বেড়িয়ে যেতে দেখেছেন তারা।

পরে লেক সার্কাস তেঁতুলতলা মাঠের পাশ দিয়ে পালিয়ে পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ তাদের বাধা দিলে পুলিশের সাথে বেশ কিছুক্ষণ গুলি বিনিময় হয়। এ সময় এক পুলিশ সদস্যও গুলিবিদ্ধ হয়। তবে, সন্ত্রাসীদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

 

ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াবলেন, আমরা ধারণা করছি এটি টার্গেট কিলিং। হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। প্রথমে তিনজন প্রবেশ করে। পরে জোর করে আরও তিনজন প্রবেশ করে। আর তারা মোট সময় নেয় পাঁচ মিনিট। পরে তারা কলাবাগানের ডলফিন গলি দিয়ে পালিয়ে যায়।

 

‘এ সময় এএসআই মুমতাজ তাদের ঝাপটে ধরলে তারা তাকে কোপায়। এ সময় তিনি সন্ত্রাসীদের মধ্যে একজনের ব্যাগ ও মোবাইল রেখে দেন।’

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

ওএফ