কথায় কথায় কর্মী ছাটাই, সন্ত্রাসীদের দিয়ে হুমকি দেয়া ও ঠিক মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন পোশাক কারাখানার শ্রমিকরা।
গাজীপুরে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হরাইজন লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
আজ সকাল ৮ থেকে এ বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকরা। বিক্ষোভে অনেকে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত হয়েছে বলেও জানা যায়।
গাজীপুর:
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে বেলা ১২টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
কারখানার সুইং অপারেটর আলমগীর হোসেন, তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা জানান, চলতি মাসের বেতন ছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতনভাতা পরিশোধ করে ঈদের আগে ছুটি দেয়।
২৩ জুন কারখানা খোলার তারিখ ঘোষণা করে। ওই দিন কারখানায় এসে তালা লাগানো দেখে কারখানা অন্যত্র শিফটের কথা বলে সেখানে যোগ দিতে বলে। এতে অপরাগতা প্রকাশ করে বকেয়া বেতনাদি পরিশোধের দাবি জানালে কর্তৃপক্ষ তালবাহানা শুরু করে।
রোববার সকালেও কারখানায় গিয়ে তালা দেখতে পাওয়া যায়। পরে সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলে পুলিশ এসে শ্রমিকদের লাঠিপেটা করে। এতে কমপক্ষে ১৫ নারী ও পুরুষ আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এসে অবস্থান নেন।
সুইং অপারেটর সীমা ও রায়হান হোসেন, ইউসুফসহ অন্যরা জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতনভাতা পরিশোধ করেনি। অন্যত্র অফিস শিফট করার অজুহাত দেখিয়ে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কৌশল এঁটেছে। কারখানায় ডাইং ও নিটিং ছাড়া সব বিভাগের শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে দিয়েছে। আমাদের শ্রম আইন অনুযায়ী বেতনভাতা পরিশোধের আবেদন জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম জানান, অ্যাকর্ড কারখানার সুইংয়ের মালামাল নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। তাই কারখানা অন্যত্র শিফট করা হচ্ছে। শ্রমিকরা এটি বুঝতে চায় না। তারা অন্যত্র কাজে যোগ দিতে চায় না।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, শ্রমিকদের লাঠিপেটার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাদের বোঝানোর পর দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
নারায়ণগঞ্জ:
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একাধিক রফতানিমুখী পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিভিন্ন দাবিতে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করেছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে ফতুল্লার শিবুমার্কেট এলাকা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পর বেলা সাড়ে ১১টায় ফতুল্লা মডেল থানার সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
দুপুর ১২টা থেকে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করে আসছেন। তবে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সড়ক থেকে সরবেন না।
শ্রমিকরা জানান, সাকুরা, রেডিক্যাল, ওসমান, ইরান, আবির ফ্যাশনসহ ৬-৭টি তৈরি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, সাকুরা গার্মেন্টের মালিক বেতনভাতা না দিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং সন্ত্রাসীদের দিয়ে হুমকি দেন। কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই করেন। একই সমস্যা অন্য কারখানাগুলোতেও।
ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকদের সড়ক থেকে উঠিয়ে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করা হচ্ছে।
জেড





