মাত্র ২০ গজ দৈর্ঘের একটি কালভার্টের অভাবে ১০ কিলোমিটার ঘুরে সাতক্ষীরা শহরে যাতায়াত করতে হয় সদর উপজেলা এবং তালা উপজেলার প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষকে।

এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি হাড়কাটা খালের ওপর একটি কালভার্ট ও একটি স্লুইসগেট নির্মাণের। সদরের দুর্গম এলাকা লাবসার রাজনগর এবং তালা উপজেলার নগরঘাটা, পোড়ারহাটের সংযোগ স্থল হাড়কাটা খাল।

রাজনগর এবং পোড়ারহাটের সংযোগে একটি স্লুইসগেট এবং একটি কালভার্ট নির্মাণ করা সম্ভব হলে ওই জনপদসহ আশপাশের গ্রামবাসী প্রতিবছর একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবে।

একই সঙ্গে এলাকার তিন হাজার হেক্টর কৃষিজমি তিন মৌসুমের চাষযোগ্য হবে উঠবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর ইমদাদুল হক জানান, সাতক্ষীরা সদর এবং কলারোয়া উপজেলার বল্লী, লাবসা, ঝাউডাঙ্গা, বাঁশদহা ইউনিয়নের রাজনগর, দেবনগর এগারানী, শিবনগর, খজুরডাঙ্গা, খেলারডাঙ্গা, মাগুরা, কৈখালী, ঝাউডাঙ্গা, হাজীপুর, বেতলা, বল্লী, আখড়াখোলা, আমতলা, ছয়ঘরিয়া এবং কলারোয়ার বাটরা, একড়া, বুইতি, রায়পুর, সমনডাঙ্গা, কুশুডাঙ্গাসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের বিলের পানি রাজনগরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া হাড়কাটা খালদিয়ে কপোতাক্ষ নদীতে প্রবাহিত হয়।

২০০০ সাল থেকে এলাকার জলাবদ্ধতায় জমে থাকা পানিতে প্রতি বছর হাজার হাজার গ্রামবাসী বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে। লাবসার রজনগর হাড়কাটা বিলের বাধকেটে জলাবদ্ধতার পানি সরানোকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর যাবত বল্লী, আমতলা, আখড়াখোলা, দেবনগর কয়েকটি গ্রামবাসীদের মধ্যে মারামারিসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনগর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন জানান, রাজনগরের হাড়কাটা বিল দিয়ে তালার কেসনগর স্লুইসগেট হয়ে কপোতাক্ষ নদীর মাধ্যমে জমে থাকা পানি সরানো সম্ভব হয় বলে, বল্লী,আমতলা, আখড়াখোলা, দেবনগর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন হাড়কাটা বিলের বাঁধ কেটে দেয়। এরপর আর ওই বাধ সংস্কার করা হয়নি। ফলে এলাকর প্রায় ২৫ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হাড়কাটা বাধের ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা, ৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই