করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্বিতীয় দফায় চলমান ‘কঠোর লকডাউন’র তৃতীয় দিন চলছে আজ। গত দুই দিনের তুলনায় সড়কে রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
রোববার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং শাহবাগ এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শাহবাগ এলাকায় দেখা যায়, ঘর থেকে বের হওয়া মানুষেরা জরুরি প্রয়োজন ও নানা ধরনের অজুহাত দেখাচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। অনেক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও অফিসে যেতে দেখা গেছে।
সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও বেশ কিছু অফিস খোলা রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন তারা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে বা অন্যের গাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
শাহবাগে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা জানান, গত দুইদিনের চেয়ে আজকে গাড়ির চাপ কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের সংখ্যাও। এদের যাদের কাছেই আমরা বের হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছি, তারা সবাই জরুরি কারণ দেখাচ্ছে। এছাড়া অনেকে আছে নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। আমরা উপযুক্ত কারণ না পেলে বিগত দিনের মতোই ব্যবস্থা নিচ্ছি।
কঠোরতম বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীতে ৩৮৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম জানান, শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিধিনিষেধ ভঙ্গ করায় ১৩৭ জনকে ৯৫ হাজার ২৩০ টাকা জরিমানা করেন।
পাশাপাশি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী বিধি লঙ্ঘন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৪১ গাড়িকে ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা করে।
লকডাউনের প্রথম দিন (২৩ জুলাই) ইফতেখায়রুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, লকডাউন অমান্য করে অহেতুক ঘোরাফেরা করায় ৪০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৩ জনকে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া বিধিনিষেধের প্রথম দিন নিয়ম অমান্য করায় ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ৪৪১টি গাড়িকে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।
এমবি





