নৌযান ধর্মঘট সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের পর শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বরিশালের সবকটি অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পাশাপাশি ঘাটে নোঙর করা সবকটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে রাতেও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারী বাংলানিউজকে জানায়, ঘাটে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও ঘাটে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। বরিশাল আভ্যন্তরীণ রুটে থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে বরিশালে লঞ্চগুলো সময়মতো এসে পৌঁছেছে।

লঞ্চ মালিকরা জানান, ধর্মঘট স্থগিতের বিষয়টি এখনো অনেক যাত্রীই জানেন না। তাই আজ একটু যাত্রীর চাপ কম।

বরিশালের নৌযান শ্রমিক নেতারা জানান, যাত্রীদের দুর্ভোগ আর চলামান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সাময়িক ভাবে যাত্রীবাহী নৌযানের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দাবি পূরণ না হলে ফের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের বরিশাল জেলার সভাপতি শেখ আবুল হাসেম মাস্টার বাংলানিউজকে বলেন, নৌযান শ্রমিকদের বেতন ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেওয়া, নদীর পথ সচল রাখাসহ ১৫ দফা দাবিতে তারা বুধবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনে নৌযানে ধর্মঘট ডাকেন। বিভিন্ন সময় বৈঠক হলেও এর কোনো সমাধান হয়নি।

তিনি আরো বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা এবং যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় এনে মন্ত্রীর আশ্বাসে শুক্রবার রাত থেকে লঞ্চগুলোকে এই ধর্মঘটের আওতামুক্ত রেখেছি। তবে অয়েল ট্যাংকার, বাল্কহেডসহ সব ধরনের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, কর্মচারীদের উপযুক্ত বেতন ভাতা দিয়ে দেওয়া হয়। পণ্যবাহী জাহাজের শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১৫ দফা দাবিতে বুধবার (২০ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ধর্মঘট শুরু হয়। পরে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টায় এ ধর্মঘট থেকে সাময়িকভাবে লঞ্চকে আওতামুক্ত ঘোষণা করা হয়।

ওএফ