নওগাঁর পত্নীতলায় গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

বালু পরিবহনে গ্রামের কাঁচা রাস্তা ব্যবহারে গ্রামবাসীদের বাধা দেওয়ার জের ধরে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পার্শ্ববর্তী মহাদেবপুর উপজেলার নুরপুর আত্রাই নদীর বালুচর থেকে রফিক-বাচ্চু গং বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন পার্বতীপুর-নুরপুর-উজিরপুর কাঁচা রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টরযোগে পরিবহন করেন। এতে ওই রাস্তা এবং একটি কার্লভার্ট ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এর ফলে রাস্তাটিতে মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এ নিয়ে গত দুই মাস ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইজারাদারদের বিরোধ চলে আসছে। কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বৈঠকও হয়েছে। রাস্তাটি মেরামত করার অনুরোধ জানালেও তা না হওয়ায় গ্রামবাসী বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করে দেন।

এ সময় পুলিশ আব্দুস সামাদের ছেলে আহসান হাবীব (১৯), খইর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেক (৩০), আতাউর রহমানের ছেলে রায়হান আলম (১৬) ও দোস্ত মোহাম্মদের ছেলে খোরশেদ আলমসহ (৩৮) চার জনকে আটক করে। গ্রামবাসী তাদের আটকের প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।

এতে পার্বতীপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের স্ত্রী শাবনুর (১৯), আব্দুল খালেকের স্ত্রী মাহরুফা (১৮), আলমগীরের স্ত্রী মাসুদা (২২), দোস্ত মোহাম্মদের মেয়ে তাপসী (১৮), লবাইয়ের স্ত্রী অকিনা বেওয়া (৫৫), আতাবুলের স্ত্রী নুরুন নাহার (২৭), মৃত এলাহী বক্সের ছেলে আব্দুস সামাদ (৬০), আজিজুল ইসলামের ছেলে এমরান (১৮), মতিউর রহমানের ছেলে মোজাফফরসহ (৬০) কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে একত্রিত হয়ে গ্রামের নারী-পুরুষ ঝাঁটা ও লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা এবাদুর রহমান, শহীদ ও সুবাস আহত হন। এসময় পুলিশের হাতে আটক ৪ জনকে গ্রামবাসীরা ছিনিয়ে নেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।

পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রফিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইজাদার মাসুদুর রহমান বাচ্চুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রামবাসীর হাতে আটক ট্রাক্টর উদ্ধার করতে পার্বতীপুর গ্রামে যায়। ইজারাদার বাচ্চু জানান, তার লোকেরা রাস্তা মেরামত করতে গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়ে।

ঢাকা, ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ