কুষ্টিয়ায় ভালো নেই বিএনপি। বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত কুষ্টিয়া। এ জেলার ত্যাগী নেতাদের সিংহভাগই এখন হয় পলাতক, নয়তো জেল হাজতে।
বাকিরা বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। বিশেষ করে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের তুখোর নেতা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গেছে। মিছিল মিটিং তো দূরের কথা, ভয়ে কেউ একটি বিবৃতি পর্যন্ত কেউ দেয়নি।
সমালোচকরা বলছেন, ‘বিএনপির অন্যতম এ ঘাঁটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। গেল ৫ জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি ঘিরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি এখন ছন্নছাড়া দলে পরিণত।
এদিকে, ত্যাগী নেতাদের বেশির ভাগই যখন জেলে আর বাকিরা ঘরছাড়া তখন বহাল তবিয়তে আছেন সুবিধাবাদীরা। ঠিকাদারী ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থায় পদ-পদবি পর্যন্ত পেয়ে যাচ্ছে তারা।
আর দল বদলে গা বাঁচাচ্ছেন সুযোগ সন্ধানীরা। কেউ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে বাগিয়ে নিচ্ছেন বিভিন্ন সংগঠনের পদ পদবিও। আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠার স্বপ্নে বিভোর এসব সুবিধাবাদী নেতাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা বর্তমানে জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে আছেন এমন এক নেতা দলের পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য।
সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর পালিয়ে গেছে সবাই। তার গ্রেপ্তারের পর মিছিল মিটিং তো দূরের কথা ভয়ে কেউ বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি কেউ।
ওই নেতা আরো জানান, সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেলা সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী রুমীকে কয়েকদিন মাঠে দেখা গেলেও গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঢাকায় পালিয়ে যান। এখনো রয়েছেন আত্মগোপনে।
মূলত, সোহরাব অনুসারীদের বেশির ভাগই জেলে থাকার কারণে একেবারেই ফাঁকা হয়ে গেছে রাজনীতির মাঠ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, সুবিধাবাদীরা আঁতাত করে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সূত্রমতে, ২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে কুষ্টিয়া সদরে একাধিক যানবাহনে পেট্রোলবোমা হামলা হয়।
এ সময় জেলা ও সদর থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা হয়। এসব মামলা দায়েরের পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলামসহ দলের প্রায় অর্ধশত নেতা গ্রেপ্তার হন। এসব নেতাকর্মীর বেশির ভাগই সোহরাব সমর্থক।
একই সঙ্গে সদর উপজেলার তিন ইউপি চেয়ারম্যানও জেলে গেছেন নাশকতার মামলায়।
এদিকে, শীর্ষ নেতারা মাঠে না থাকায় বাকিরা গ্রেপ্তারের ভয়ে গা ঢাকা দেন। এরপর কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি আর কোনো কর্মসূচি পালন করেনি।
তবে ব্যতিক্রম ছিল স্বেচ্ছাসেবক দল। হাতেগোনা হলেও স্বেচ্ছাসেবক দল বিক্ষিপ্ত ভাবে মিছিল-মিটিং চালিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা বলেন, চরম বেকায়দায় রয়েছেন বিএনপির ত্যাগী নেতারা।
বেশির ভাগই জেলে। আর বাকিরা গ্রেপ্তার এড়াতে দিনের পর দিন বাড়ি ছাড়া। তবে দলের অনেক নেতা এখনও বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে, হামলা-মামলা থেকে বাঁচতে দলের অনেক নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
দলবদল করা কর্মীরা বলেন, ‘নেতারা আরামে আছেন। আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর একটু শান্তিতে থাকতে পারব।
এসএইচ





