যশোরের অভয়নগরে ঝড়ে ছিড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তারে এক কলেজছাত্রী মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো তিনজন। আহত তিনজনকে পৃথক তিন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ো হাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে যশোর-খুলনা মহাসড়কের প্রেমবাগ এলাকায় শাহিদা ফিলিং স্টেশনের সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হালকা ঝড় বয়ে যায় ওই এলাকার ওপর দিয়ে। এ সময় মহাসড়কের পাশে বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ঝড়ো হাওয়া থামলে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ামাত্র হাইভোল্টেজ তারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গাছের ডাল বিদ্যুতায়িত হয়। ভেঙে পড়া ওই ডালের সংস্পর্শে এসে লাইজু (১৯) নামে এক তরুণী মারা যায়।

নিহত লাইজু প্রেমবাগের মুস্তার আলীর মেয়ে। ফাতেমা বেগম নওয়াপাড়ার নিজামউদ্দিনের স্ত্রী। ঐশী প্রেমবাগ গ্রামের ফরহাদ হোসেনের এবং লাবিবা একই এলাকার শামসুর রহমানের মেয়ে।

অভয়নগর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শামসুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, লাইজু ছাড়াও একই স্থানে ফাতেমা বেগম (৪৫), ঐশী (১৯) এবং লাবিবা (১২) নামে তিনজন বিদ্যুতায়িত হয়। এদের মধ্যে ফাতেমা বেগম নামে মধ্যবয়সী ওই নারী লাইজুকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন।

অভয়নগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়া জানিয়েছেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করেন।

এদের মধ্যে লাইজু দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত তিনজনের মধ্যে ফাতেমাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লাবিবাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ এবং ঐশীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঐশীর মা আফরোজা বেগম জানান, তার মেয়ে রাস্তায় ঝাল-মুড়ি কিনতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়। আহত ঐশী ও নিহত লাইজু সিঙ্গিয়া আদর্শ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে আহত ঐশী আশঙ্কামুক্ত।

তারেক/এমআর