২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ শিকারে গেছেন জেলেরা। আর ইলিশ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাঙ্গাস।
জেলেদের বরাত দিয়ে আড়তদাররা জানান, বরিশালে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর ও লতা নদীতে এখন ধরা পড়ছে প্রচুর পাঙ্গাস।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকালে পোর্টরোডের মোকামে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা বড় বড় পাঙ্গাস সাজিয়ে হাকডাক দিচ্ছেন বিক্রির জন্য।
পোর্টরোড মোকামের মৎস্য শ্রমিকরা বলেন, ইলিশের আড়তদাররা এখন পাঙ্গাস কেনাবেচা করেন। একাধিক ইলিশ জেলে জানিয়েছেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে তারা নদীতে জাল পেতে ইলিশের চেয়ে পাঙ্গাশ বেশী পাচ্ছেন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ, অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সাইন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ইলিশ ব্যবস্থাপনায় সরকারের নানা উদ্যেগের ফলে নদ-নদীতে পাঙ্গাসসহ অন্যান্য মাছের সুরক্ষা এবং প্রজনন বেড়েছে। শীতের শুরুতে পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়ে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর মেঘনাসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে ইলিশের পাশাপাশি প্রচুর পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। আরও একমাস নদনদীতে পাঙ্গাসের আধিক্য থাকবে।
বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এখন পাঙ্গাসের মৌসুম। তাছাড়া জেলেরা আগের চেয়ে সচেতন হয়েছেন। এখন আর ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে পাঙ্গাসের বাচ্চা নিধন করেন না। ইলিশ রক্ষার বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ায় পাঙ্গাসের প্রজনন বেড়েছে।
পোর্টরোড মৎস্য মোকামের সিকদার ফিসের স্বত্ত্বাধীকারি জহির সিকদার বলেন, কার্তিকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের মেঘনা ও শাখা নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর পাঙ্গাস ধরা পড়ে। মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা শেষে আড়তে ইলিশের চেয়ে পাঙ্গাস বেশি আসছে। দামও একটু কম। পাঙ্গাসের আমদানী এভাবে অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে। তিনি আরও জানান, বুধবার ৮-১০ কেজি ওজনের পাঙ্গাস পাইকারী ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৬০০ টাকা দরে।
এমবি





