দেশ জুড়ে চলছে প্রচণ্ড তাপদাহ। বৃষ্টির দেখা নেই কোথাও। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এই অবস্থা সপ্তাহজুড়ে থাকার আভাস দিচ্ছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ আবহাওয়া বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা।

আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল মান্নান মানবজমিনকে জানান,  এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে শুক্রবারের আগে পরিবর্তন হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে শুক্রবারের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া ১লা জুন থেকে সাধারণত বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। কোন কোন বছর ব্যতিক্রম হয়ে থাকে। যেমন গত বছর ১লা জুন বৃষ্টি শুরু না হয়ে ৬ই জুন বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। তবে এবার হয়তো সময়মতো বৃষ্টি হতে পারে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রায় গত বছরও শক্তিশালী এননিনো ছিল। যে কারণে বেশি গরম ছিল। এবছরও এলনিনোর পর্যায় পৌঁছে গেছে। এর প্রভাবে আফ্রিকা থেকে শুরু হয়ে পূর্ব এশিয়া হয়ে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। কোথাও কোথায় দাবদাহ শুরু হয়েছে।

তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তাকে দাবদাহ বলা হয়। এর নিচে থাকলে তাকে বলা হয় তাপদাহ। এদিকে দিনের মধ্যভাগে সূর্য একেবারে মাথার ওপর থাকায় দিনের তাপমাত্রা যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি অনুভুত হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব মতে গতকাল ১৭ই মে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৩ মে পর্যন্ত তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে বিদেশী সংস্থাগুলো দেশের তাপমাত্রার পরিমাণ একটু বেশি বলে খবর দিচ্ছে।

আবহাওয়া বিষয় সংস্থা একিউ ওয়েদারের হিসাব অনুযায়ী গত ৩দিন ধরে বাংলাদেশর রাজশাহী অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে।

আগামীকাল ও পরেরদিনও বাংলাদেশর রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় গরম একটু কম থাকলেও প্রায় কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এমবি