ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেছেন, যৌক্তিক পরিণতির দিকে না আসা পর্যন্ত ফরমালিন বিরোধী অভিযান চলবে। ফরমালিনের পুনরায় বিস্তার না ঘটতে পারে সেজন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে অভিযান চলবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ফরমালিন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
কমিশনার বলেন, বিষমুক্ত ফল আমাদের প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে থাক বা না থাক সম্মানিত নগরবাসী আমাদের সাথে রয়েছেন। শহরবাসী প্রত্যাশা করেন ব্যবসায়ীরা চলমান অভিযানকে সমর্থন জানানোর মাধ্যমে এটি চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে কমিশনার বলেন, উপার্জনের জন্য ব্যবসা করতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হবে। কিন্তু সমগ্র জাতিকে নীরবে হত্যা করার ব্যবসা চলতে দেওয়া যায় না। আমাদের শুধু মাত্র অর্থের লিপ্সা, ব্যক্তি স্বার্থ বড় হওয়া উচিত নয়।
ফরমালিন নির্মূলে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি হয়েছে। এ সময় উল্টোপথে যাওয়ার সুযোগ নেই। অসংখ্য মানুষ আমাদের হট লাইনে ফোন করে অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছেন।
আমদানীকৃত ফলের বিষয়ে কমিশনার বলেন, আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে বন্দরগুলোতে ফরমালিন পরীক্ষার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। আমদানীকৃত ফলে ফরমালিন পাওয়া গেলে কাস্টম এর ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করবো।
কমিশনার পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ফরমালিন ব্যবহার বন্ধ তথা সামজিক গণহত্যা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে ১১১টি ট্রাকের ফল পরীক্ষা করে একটিতেও ফরমালিন পাওয়া যায়নি।
১১ থেকে ১৭ জুন চেকপোস্ট দিয়ে মোট ৭০৭৩ টি ট্রাক প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১৬৩০ টি ট্রাক ফলবাহি ছিল। ফলবাহি ট্রাকে আম, জাম, কাঠাল, লিচু, কলা, আনারস, লেবু ও লটকন ছিল। এর মধ্যে ৮১টি ট্রাকের ফলের স্যাম্পল টেষ্টে ফরমালিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
চেকপোস্টে পরীক্ষায় লিচুতে ২.৮৮ থেকে ৮৯ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। আমে প্রায় ০.৪০-১৪৯.৭৫ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। জামে ৩.১২ থেকে ৩৫ পিপিএম মাত্রার ফরমালিন পাওয়া যায়।
অভিযানে ১২৬৮৩.৫৫ মণ আম, ১২৫৯ মণ জাম, ৩২,১৭,৬৪৭টি লিচু, ১১২৮৬ পিস আনারস, ৩.৫ মণ মাল্টা, ৩৫০.৫ মণ পেঁপে ও ৪৫.৭৬ মণ সফেদা জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে ২ লক্ষ ৫শত টাকা জরিমানা, ০৪ জনের সাজা ও ২১টি মামলা করা হয়।
অপর দিকে ১৩ থেকে ১৬ জুন খ্রি. দিনের বেলায় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকানে ও বাজারেও ডিএমপি’র নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত ফরমালিন ও কার্বাইডযুক্ত ফলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযানে পরীক্ষায় লিচুতে ৩.২৬ থেকে ৭৩.৩২ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। আমে প্রায় ১.৮৫ থেকে ১০১.৭৪ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়। জামে ৪.১৮ থেকে ১৩০ পিপিএম মাত্রার ফরমালিন পাওয়া যায়।
অভিযানে ১৪৩.৭৫ মণ আম, ১.৫ মণ জাম, ১৬২০০০টি লিচু, ৮০ পিস আনারস, ৫ মণ ১৫ কেজি আপেল, ১.৩৭ মণ মাল্টা, ৬.৫ মণ পেয়ারা ও ৫০টি কাঁঠাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা ও ০২ জনের সাজা প্রদান করা হয়।
ঢাকা, জেইউ, ১৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর





