মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও রক্ষার লক্ষ্যে কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস সকল প্রকার মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রাখা হয়। ২১ আগস্ট থেকে এই হ্রদে ফের মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।

মৎস্য আহরণ শুরুর প্রথম দিনেই মাছ অবতরণে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) তিনটি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে মোট ১২২ মেট্রিক টনের অধিক মাছ অবতরণ হয়েছে।

২০১৩ সালে মৎস্য আহরণ শুরুর প্রথম দিনে পূর্বেকার সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে রাঙ্গামাটি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে মোট মাছ অবতরণ হয়েছিল ৯৬ মেট্রিক টন।

মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি, মজুদ ও ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে ৭ মে মধ্যরাত থেকে ২০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, শুকানো ও পরিবহনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

চলতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধের সময় মা ও পোনা মাছ অবৈধভাবে আহরণ ও পাচার রোধে প্রথমবারের মতো কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে বিএফডিসি জনবল বৃদ্ধিসহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করে। বিএফডিসি জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করে।

এছাড়া গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ বিভিন্ন তথ্য দিয়ে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা কার্যক্রমে সহায়তা করেন। সকল পর্যায়ের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় প্রায় সাড়ে তিন মাসব্যাপী যেকার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এর ফল প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে প্রচুর মাছ পাওয়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটির বিএফডিসি’র উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাসুদুল আলম জানান, প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুমে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস কাপ্তাই হ্রদ হতে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরেও ৭ মে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের এক আদেশের মাধ্যমে মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদ হতে মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, শুকানো ও পরিবহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময়ে জেলেদের বিকল্প জীবিকা হিসেবে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ১৮ হাজার ৯৬০ জেলেকে ২০ কেজি করে তিন মাস খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, সকল পর্যায়ের সহযোগিতায় অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এ বছর বিএফডিসি কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ বন্ধ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদন হয়েছে।
রাঙ্গামাটি মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান, প্রথম দিনেই ছোট মাছ ও চাপিলা মাছ বেশি পাওয়া গেছে। বড় মাছ তেমন একটা পাওয়া যায়নি। প্রথম দিন থেকে জেলে ও ব্যবসায়ীদের প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও সারা বছর এই প্রাণচাঞ্চল্য নাও থাকতে পারে।

তিনি জানান, সময় মতো হ্রদের পানি না বাড়ায় সামনের সময়গুলোতে মাছ সঙ্কটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এবারের কার্যকরী উদ্যোগের ফলে আশানুরূপ মৎস্য আহরণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনেক ব্যবসায়ী।

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই