আওয়ামী লীগ নেতা ও তিতাসের দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত জিএম মঞ্জুরুল হকের হাত ধরে ২৩ বছরের সংসার ছেড়েছেন ৪১ বছরের বয়সী মতি শিউলী রায়।
শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী হারা স্বামী চিত্ত রঞ্জন রায় এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কুড়িগাম জেলার উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার মঞ্জুরের পরকীয়া প্রেমে পড়েন ওই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেত্রী মতি শিউলী রায় তার স্বামীর চিত্ত রঞ্জন রায়ের সমুদয় সম্পদ এবং এক মাত্র চাকরিজীবী মাত্র সন্তানকেও নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, প্রতারক প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক এবং মতিমি শিউলির পক্ষ থেকে নানা ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকিতে পলিয়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন রায়।
তিনি স্ত্রী, ২২ বছর বয়সী চাকরিজীবী পুত্র ড্রাগন রায়,দেড় বছরের বয়সী নাতী দ্রারি রায় এবং সম্পদ ফেরপেতে চান।
তিনি বলেন,উলিপুরে বিকাশ এমসিএস নামে একটি সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা প্রতারক মঞ্জুরুল হক। এ প্রতিষ্ঠানে তিনি এবং তার স্ত্রী চাকরি করতেন। বর্তমানে তার স্ত্রী এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং ছেলে ম্যানেজার।
তিনি অভিযোগ আনেন, ২০০৯ সাল থেকে সমিতির কাজের নামে তার স্ত্রী শিউলী ঢাকায় মঞ্জুরের বাসায় আসতেন। তবে ৩ মাস আগে মঞ্জুরুল তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এর আগে মঞ্জরুল আলমকে চিত্তরঞ্জন এবং তার স্ত্রী ধর্ম পিতা (আবব্বা) ডাকতেন।
এখন তিনি বলেন এঘটনায় মামলা করতে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় তার মামলা গ্রহন নেয়নি।
স্ত্রী,সন্তান হারা চিত্তরঞ্জন বলেন, একজন লম্পট,সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারি, দূর্নীতিবাজ ও সমবায়ের নামে সুদের ব্যবসায়ী তিতাস এর চাকুরি থেকে বরাখাস্ত জিএম প্রকৌশলী মো.মঞ্জুরুল হকের কালো থাবা আমার জীবন ও সাজানো সংসার তছনচ করে দিয়েছে।

তার স্ত্রীকে অবৈধভাবে বিয়ে করে এখন প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে আমাকে। সংসার,চাকুরি,সহায় সম্পত্তি সব হারিয়ে জীবনের ভয়ে আমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকির কারণে তার জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। প্রকৌশলী মো.মঞ্জুরুল হকের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী যে কোন মূহুর্তে আমার প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের সন্তান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল হক এমপি নোমিনেশন ও মহিলা এমপি বানানোর উদ্দেশ্যে মতি শিউলি রায়কে গোপনে বিয়ে করে।
চিত্ত রঞ্জন রায় সাংবাদিকদের আরও বলেন,তিতাস এর হেড অফিস এবং ময়মনসিংহ অফিসে ডিজিএম থাকাকালে বিএনপি-র জ্বালানীমন্ত্রী মোশারফ হোসেনের ছত্র ছায়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, কর্মী নিয়োগএবং প্রকল্পের কাজ করে শত শত কোটি টাকা এবং ব্যাংক ব্যালেন্স এর মালিক হয় উক্ত প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল হক।
দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জন করে ব্যক্তিগত গাড়ী ঢাকায় ফ্লাট ও জমি, রংপুরে মার্কেট, ময়মনসিংহে জমির মালিক হলে জরুরী অবস্থা চলাকালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। কিন্তু বিপুল টাকা দিয়ে সে মামলা ধামাচাপা দিয়ে রাখে। আওয়ামী লীগ সরকার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

তিনি বলেন, অবৈধ অর্থ জায়েজ করার জন্য উলিপুর বাজারে বিকাশ এমসি এস লি. নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। যার উদ্দেশ্য হলো নিরীহ মানুষ জনকে ঋন দিয়ে তাদের কাছ থেকে ফাকা চেক বই ও সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে শোষন স্টাইলে সুদ আদায় করা। যদিও সমবায়ের নামে ঋন দিয়ে সুদের ব্যবসা করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। তারপরও দিনের পর দিন সে এই অবৈধ সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা, একে, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





