গাইবান্ধার নলডাঙ্গা অঞ্চলে সম্প্রতি হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজ দের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব ডাক্তার ও কবিরাজ দের নেই কোন অভিজ্ঞতা, লাইন্সেস কিংবা তেমন কোন প্রশিক্ষণ। লেখা পড়া না থাকলেও অনভিজ্ঞ এসব ডাক্তার ও কবিরাজদের খপ্পড়ে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্ভরযোগ্য তথ্য সুত্রে ও ভুক্ত ভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা সহ পার্শ্ববতী এলাকা গুলোতে বেশ কিছুদিন ধরে কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি সরকারী স্বাস্থ্য নীতিমালা লঙ্ঘণ করে নিজেদের খুব বড়ো মাপের এ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে নামি দামি ডাক্তার ও কবিরাজের পরিচয় জাহির করছে। এভাবে তারা এলাকার সহজ সরল মানুষদের কে প্রতারণার ফাদে ফেলে রোগ নিরাময়ের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এসব ভুয়া ডাক্তার ও কবিরাজ বিভিন্ন হাটবাজারে চমকপ্রদ লিফলেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে এবং রং বেরংয়ের বিজ্ঞাপন লাগিয়ে আবার কখনো কখনো গ্রাম গঞ্জে মাইকিং করে ও ব্যানার ঝুলিয়ে বিনা অপারেশনে অশ্ব, যৌন, হাপানি, স্ত্রী রোগ, বাত ব্যাথা আমাশয় সহ নানা ধরনের রোগ নিরাময় করা হয় বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ছল ছাতুরির আশ্রয় নিয়ে অপ চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশাল আকৃতির সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে চেম্বার দিয়ে ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসলেও দেখার যেন কেউ নেই।

এসব ডাক্তার ও কবিরাজদের অপচিকিৎসায় অনেক রোগাক্রান্ত রোগীর রোগ আরোগ্যের বদলে তারা আরো গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে পরেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া এদের প্রতারণা মুলক চিকিৎসায় অনেকেই চির পঙ্গুত্ব সহ আরো দুরাব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সসব ডাক্তার ও কবিরাজ একেক সময় একেক স্থানে অবস্থান করে। কিছুদিন পর ক্রমান্বয়ে তাদের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে গেলে অবস্থার বেগতিক ভেবে তরিঘড়ি করে ঐ স্থান থেকে দ্রুত সটকে পরে। পরে অন্যত্র গিয়ে অনুরূপ কৌশলে নতুন ঘাটি স্থাপন করে প্রতারণা মূলক চিকিৎসা চালিয়ে যায়।

এতদসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু সংখ্যক ভুক্ত ভোগি সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও অদ্যবধি এসব প্রতারক ডাক্তার ও কবিরাজের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরি ব্যবস্থা নেয় নি বলে জানা গেছে।

এমকে