কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়তে বাধা একটি রাজনৈতিক দল- জামায়াত। এই দলটিই এখন জাতীয় ঐক্যের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক।

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদএকথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির অনেক নেতা এখন বুঝতে পেরেছেন জামায়াতকে তাদের প্রয়োজন নেই। তাদের জোটে এ দলকে রাখা ঠিক হবে না।

জাতীয় ঐক্য ছাড়া দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণ অসম্ভব মন্তব্য করে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আরো বলেন, জামায়াতের দায় বিএনপি নিতে পারেন না। অপরদিকে জামায়াতের ভেতরেও একটি বড়ো অংশ আছে যারা ৭১’র পরে জন্ম নিয়েছেন। তাদেরও ভাবতে হবে জাতীয় ঐক্য হলে তাদের কী ভূমিকা থাকবে। তারাই বা কেন জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে চুপ থাকবে।

এমাজউদ্দীন বলেন, 'বেগম জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- ২০ দলের মধ্যে অন্তত ওই দলটিকে আর ওইভাবে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। এ দলটি তার জন্য বর্তমানে সম্পদ নয়, বোঝা।'

এদিকে একাধিক অনলাইন এমাজউদ্দীনকে উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করে, বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে জামায়াতকে বাদ দেবে। খালেদা জিয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ধরনের সংবাদের বিষয়ে পরে অবশ্য একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাকে বলেন, 'আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। এতে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।'

এমাজউদ্দীন বলেন, 'আমি বলেছি- সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। এখানে জামায়াত কোনো বিষয় নয়।'

তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপির দিক থেকে তো জামায়াতের ব্যাপারে একটা কিছু হলো। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল তো যেকোনো সময় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু তারা তো সেটা করছে না।

অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো জাতি তাদের ভয়ঙ্কর সঙ্কটের সময়ে ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে যায়। এধরণেরই উদ্যোগ একটি জীবন্ত জাতি গ্রহণ করে থাকে। সবাই মিলেমিশে এক সঙ্গে তা প্রতিরোধ করতে হয়। বর্তমানে যে সঙ্কট চলছে তা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো। কিন্তু ঐ সময়ে জাতি কারো সাহায্যের জন্য বসে থাকেনি বা ভয়ে ভীত হয়নি। এক সাথে লড়াই করে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে।

জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘জঙ্গিবাদের শিকড় বাংলাদেশে খুব বেশি দূর যায়নি। এটা নির্মূল করা সম্ভব। তার জন্যে দরকার জাতীয় ঐক্য। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যদি জাতীয় ঐক্য গড়তে পারি, সবাই মিলে যদি জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করতে পারি, তাহলে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব হবে। সভ্য সমাজের কেউ জঙ্গিবাদকে মেনে নিতে পারে না।’’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দীর্ঘদিন মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে তাদের সাথে নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাধারণ মানুষের সাথে ঐক গড়ে তুলতে হবে।

এব্যাপারে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, জঙ্গি ও জঙ্গিবাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। জঙ্গিবাদ একটি ব্যাধি। এটি একটি জাতির মধ্যে যখন ঢুকে যায় তখন অপারেশন করতে হয়। জঙ্গিবাদের কনসেপ্টকে জাতি উপড়ে ফেলতে চায়। তবে সরকার কতটুকু চায় তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের বিপক্ষে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার উল্টো কাজ করলো। ঐক্য তো করলই না বরং বিএনপি-জামায়াতকে দোষারোপ করতে থাকলো। তাতে জাতি আজ হতাশ। এতে করে জঙ্গিবাদের প্রসার আরো বিস্তৃত হবে। বিদেশীরা আজ জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা বলে সহযোগীতা কেনো করতে চায় তা খতিয়ে দেখতে হবে।

এমএনজে/কেবি