নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদ বৈধভাবে গড়ে উঠেছে এবং মসজিদের মোতাওয়াল্লী জমি ওয়াকফ করে গেছেন দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে সংঠনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, মসজিদ কখনো অবৈধ হয় না, এগুলো বলা দুঃখজনক।
নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ এই দুঃখজনক ঘটনা শহিদদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দানের পাশাপাশি সম্পূর্ণ অসহায় পরিবারগুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।
মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, দেশের অনেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় রয়েছে অবৈধ জমিতে, অনেক ক্লাব রয়েছে অবৈধ জমিতে- এসব নিয়ে কেউ কথা বলে না, মসজিদ নিয়ে কথা বলে। তিনি বলেন, ওই মসজিদ বৈধ জায়গায় রয়েছে। মোতাওয়াল্লী মসজিদে জমি দান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি গ্যাসের লাইন লিকেজ পাওয়া গেছে। যদি তিতাসের কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্তে প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কাসেমী, সহ সভাপতি আব্দুর কাদির, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও ইসা মহানগর সভাপতি মাওলানা মাছুম বিল্লাল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়াহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম মৃত্যু হয় জুয়েল নামের এক শিশুর। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনও মৃতের তালিকায় রয়েছেন। রোববার রাতে মারা যান মসজিদের ইমাম।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ফতুল্লার জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হান্নান (৫০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হলো।
ভর্তির পর ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত ৩৭ মুসল্লিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবারই ডিপবার্ন রয়েছে। কেউ শঙ্কামুক্ত নন।
এমবি





