শিক্ষক ক্লাসের প্রস্তুতি নিয়ে আসেন না বলেই আজ ছাত্ররাও পার পেয়ে যাচ্ছে। আমাদের সময় শিক্ষকরাই বলতেন ছাত্রদের ক্লাসে পড়ে আসার জন্য, ছাত্ররা ভাল প্রশ্ন করতে না পারলে শিক্ষকরাও পাঠদানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
আর শিক্ষকরাও ছিলেন পূর্ণনৈতিক মূল্যবোধের অধিকারী। আমাদের আজ নৈতিক মূল্যবোধের বড়ই অভাব বলে মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া।
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ছাত্র কল্যাণ ট্রাষ্ট আয়োজিত ‘সু-শিক্ষাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের একমাত্র সহায়ক’ র্শীষক জাতীয় সেমিনার ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান-২০১৫ তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন।
ফজলে রাব্বি বলেন, তিনি স্মৃতি চারণ করে বলেন, আমাদের এক স্যার ছিলেন, কাব্য দিত্য। তিনি একদিন স্কুলে আসছিলেন, সাথে ছাতা ছিল, প্রখর রোদ্র মাথায় নিয়ে হাটছেন কিন্তু ছাতা খুলছেন না।
স্যারকে ছাতা খুলছেন না কেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, আমার সকল ছাত্ররাতো রোদ্র মাথায় নিয়ে যাচ্চেন আমি ছাতা খুলি কেমন করে ? এমনই ছিল আমাদের সময় শিক্ষকদের মানবিক মূল্যবোধ।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার ক্যারিকুলাম অনেক বদলেছে কিন্তু মানবিক মূ্ল্যবোধ থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি।
সমাজে অনেক সম্পদশালী আছেন, তাদের সমাজে নানা বৃত্তিমূলক আয়োজনের মাধ্যমে অবহেলিত ,ঝরেপড়া শিক্ষর্থীদের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। আজ সম্পদশালীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুদ মওকূপ করেন, সস্পদশালীরা আরো সম্পদশালী হয়ে উঠেন। কিন্তু দলিতদের খবর কেউ রাখেন না।
আমরা যে মূল্যবোধ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি আজ সে মূল্যবোধ পূরণ হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন আমরা শুনতে পাব সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তার অধিকার নিয়ে বসবাস করছে তখনই মুক্তিযুদ্ধের আসল মূল্যবোধ পূরণ হবে।
আব্দুল্লাহ আবু সাইদ বলেন, ন্যায়নীতি শিক্ষা আমরা শিক্ষা থেকেই পেয়ে থাকি, আর যদি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক শিক্ষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়, তাহলে কিছু ছাত্র অবাধ্য হয়ে উঠে, কিন্তু আমাদের কিছু শিখতে হলে আমাদের নৈতিক দিক দিয়ে আরো বড় হয়ে উঠা উচিত।
সমস্ত ভাল কথা শুনার পরও মানুষ ভাল হয়ে উঠতে চায়না, কারণ সে যে পরিবেশে বড় হয়েছে সে পরিবেশ তাকে নৈতিক শিক্ষা দেয়নি। আর সভ্যতা যখন তৈরি হয় তখন মানুষের মূল্যবোধকে নিয়েই তৈরি হয়। বৃটিশরা যখন আমাদের এ অঞ্চলে এলো তখন তারা তাদের মূল্যবোধ দিয়েই আমাদের এ অঞ্চলের খ্ষমতা দখলকরে নিল।
তিনি বলেন, বৃটিশদের সময় যে উচ্চ মূল্যবোধ আমরা দেখেছি আবার যখন পাকিস্তান হল আমরা আবার সে মূল্যবোধ হারাতে বসেছি।
তিনি বলেন, বল্গাহীনভাবে আমাদের দেশে আজ অনৈতিক কাজ চলছে, এই অনৈতিক শিক্ষার জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাই অনেকাংশে দায়ী। যে শিক্ষক তিন লক্ষ টাকা দিয়ে চাকরি নিচ্ছে সে কিভাবে মূল্যবোধেআমাদের নতুন প্রজম্নকে নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিবে, আর এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরাও কমদায়ী নন।
সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন, ড.আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ ছাত্র কল্যাণ ট্রাষ্টের পরিচালক লে. কর্ণেল (অব) আবু উসমান চৌধুরি, প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান , বিএসএমএমইউ র সাবেক ভাইস চ্যানসেলর অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত প্রমূখ।
এমএ/এসইচ





