পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে মাদারীপুর শিবচরেরই প্রায় ৩০ জন।
ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি), নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডেও সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ ও ‘রুস্তম’ রয়েছে। কিন্তু নিখোঁজদের কোনো সন্ধানই দিতে পারেনি। এমনকি লঞ্চটির হদিসও পাওয়া যায়নি।
বাধ্য হয়ে স্বজনরা পদ্মা নদীতে প্রিয়জনদের লাশের সন্ধান শুরু করেছেন।
শিবচরের পাচ্চরের মিজানুরের স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের চারজন, পার্শ্ববর্তী সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের ফরহাদ মাদবরের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের চারসদস্য, শিবচর পৌরসভার দুই মেডিকেল ছাত্রীসহ তিন বোন, ভান্ডারীকান্দির তিন ভাই-বোন, মাদবরচরের তারা মিয়ার দুই ছেলে-মেয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একসঙ্গে এত লোক নিখোঁজ থাকায় শিবচর জুড়ে চলছে শোকের মাতম।
শিবচর উপজেলার পাচ্চরের গোয়ালকান্দা গ্রামের নুর ইসলাম হাওলাদারের বড় ছেলে মিজানুর হাওলাদার দীর্ঘদিন স্বপরিবারে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দর্জির ব্যবসা করতেন। সোমবার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দুই ছলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে রওনা হন। পিনাক-৬ ডুবে পরিবারটির সব সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আশেপাশের মানুষ পরিবারটিকে সমবেদনা জানাতে এসে চোখের জলে সিক্ত হচ্ছে।
পার্শ্ববর্তী সন্ন্যাসীরচরের মৃত মা-বাবার সন্তান ওয়ার্কশপ কর্মচারী ফরহাদ (২৮) স্ত্রী শিল্পী (২০), শিশু সন্তান ফাহিম (১) ও শ্যালক বেলালকে (২৭) নিয়ে লঞ্চে করে ঢাকায় রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবারটিতে নিখোঁজদের সন্ধান করার তেমন কোনো লোক নেই। কাওরাকান্দি ঘাটের লঞ্চে উঠার আগে হাস্যেজ্জ্বলভাবে তিন বোনকে বিদায় জানানোর ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সিকদার মেডিকেল কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী নুসরাত জাহান হীরা, ছোট বোন রাইফেলস কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা আক্তার স্বর্না ও ফুপাতো বোন চীনের একটি মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাকি আক্তারও নিখোঁজ হয়। হীরার বাবা শিবচর পৌরসভার গুয়াতলা গ্রামের মুহুরী নুরুল হক দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। হীরার লাশ পাওয়া গেলেও এখনো স্বর্না ও লাকী নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবারটির সদস্যরা আদরের সন্তানের লাশের জন্য হন্যে হয়ে পদ্মা নদীতে চষে বেড়াচ্ছেন। তিন সন্তান ইপা (১৪), মিরাজ (৯), ইব্রাহিমকে (২) নিয়ে ভান্ডারীকান্দির মা হাসি বেগম তিন সন্তানকে হারিয়েছেন। সন্তানদের হারিয়ে মা এখন মৃতপ্রায়। মাদবরচরের তারা মিয়া দুই ছেলে-মেয়ে শাহীনুর (১৭) ও নুরে আলমকে (১৩) নিয়ে পদ্মায় পড়ে নিজে বাঁচলেও সন্তান দু’টি নিখোঁজ রয়েছেন। পাগলপ্রায় বাবা ও স্বজনরা পদ্মা নদী ঘুরে ঘুরে অস্থির হয়ে উঠলেও এখনো কোনো হদিস মেলেনি।
এছাড়াও শিবচরের বিভিন্ন স্থানের আরও ১০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু শিরুয়াইলের হাসিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ফরহাদের এক আত্মীয় মাহফুজ বলেন, ফরহাদের ভাইয়েরা আলাদা দূরে দূরে থাকে। তাকে খোঁজার মতো তেমন লোক নেই। আর সরকারের যে অবস্থা মনে হয় না এ লঞ্চ উদ্ধার হবে।
নিহত হীরার বাবা নুরুল হক বলেন, আমার চোখের সামনেই মেয়ে তিনটা তলিয়ে গেলো আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমি প্রথম ওদের ধরে ছিলাম পরে স্রোতের তোড়ে ওরা ভেসে যায়।
ঢাকা, ৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





