পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের মানুষ সবুজ বিপ্লবে নেমেছেন। জানমাল রক্ষা করতে ব্যক্তি উদ্যোগে উপজেলার প্রতিটি বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে হাজার হাজার ফলজ ও বনজ গাছের চরা রোপন করছে।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা রাস্তার দু'পাশেও এসব চারা গাছ রোপনের কাজ শুরু করছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় এক সময় প্রাকৃতিক সবুজ দেয়াল তৈরি হবে বলে পরিবেশবিদরা মনে করেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার দেবপুর, নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, খাপড়াভাঙ্গা, নিজামপুর, টিয়াখালী, মিঠাগঞ্জ, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ যেন সবুজ বিপ্লবে নেমেছে। চারিদিকে শুধুই সবুজের সমারোহ। গ্রামবাসী জানান, একমাত্র গাছই পারে তাদের জীবন বাঁচাতে এ ধারণায় ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামে বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত জমিতে চারা গাছ রোপন করা হচ্ছে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আরামগঞ্জ গ্রামের ইব্রাহিম বেপারী জানান, সামান্য ঝড় হলেই ঘর বাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঝড়ো বাতাস থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসিরা এখন বাড়ির চারপাশে দ্রুত বর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেছে। নিজেও শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপন করেছেন বলে তিনি জানান।
গাছের চারা বিক্রেতা গোলাম মোস্তফা জানান, কলাপাড়ায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অপর চারা গাছ বিক্রেতা নিজাম মুন্সী, সরোয়ার মোল্লাও এ বছর এক থেকে দেড় লাখ চারা গাছ বিক্রি করেছেন। তারা জানান, লাভজনক হওয়ায় সবাই চারা গাছ রোপনের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। ফলে প্রতিটি মানুষের চারা গাছ লাগানোর আগ্রহ বেড়ে গেছে।
ব্র্যাকের সেক্টর স্পেশালিস্ট মনিরুজ্জামান খান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ব্র্যাক পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে চলতি বছরে ৪৩ কিলোমিটার রাসত্মার দুই পাশে বৃক্ষরোপন করা হবে। ইতোমধ্যে রোপন কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.মশিউর রহমান জানান, সরকারিভাবে এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এলাকার লোকজন এভাবে যদি চারা গাছ রোপন করে তা হলে এক সময় এ সমুদ্র উপকূলীয় এলকায় সবুজ বেস্টরি তৈরি হবে।
ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





